উৎপাদন বাড়লেও চিন্তা মুদ্রাস্ফীতি! মে মাসে অর্থনীতির হালচাল কী বলছে?

ভারতের অর্থনীতিতে সুখবর। শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি এবং বিভিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্পের হাত ধরে মে মাসে ভারতের উৎপাদন খাতের কার্যকলাপ গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পিএমআই সূচকের ঊর্ধ্বগতি
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এইচএসবিসি ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই (PMI) মে মাসে ৫৫.০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা এপ্রিলের ৫৪.৭ পয়েন্টের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি। অর্থনীতিবিদদের মতে, পিএমআই সূচক ৫০-এর উপরে থাকা মানেই সেই খাতে সম্প্রসারণ ঘটছে। সেই বিচারে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। মূলত ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলোতে নতুন অর্ডার এবং সামগ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধিতে গতি এসেছে।
অভ্যন্তরীণ বাজারই মূল চালিকাশক্তি
এইচএসবিসি-র প্রধান অর্থনীতিবিদ (ভারত) প্রাঞ্জুল ভান্ডারি জানিয়েছেন, এই সাফল্যের প্রধান কারিগর হলো অভ্যন্তরীণ বাজার। যদিও রপ্তানির হার কিছুটা ধীর, তবুও দেশের ভেতরে বিভিন্ন প্রকল্পের চাহিদা শিল্পখাতকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এখনো একটি উদ্বেগের বিষয়। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি, তেল এবং পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। কাঁচামালের দাম বাড়লেও উৎপাদিত পণ্যের দাম সেভাবে না বাড়ায় মুনাফার ওপর কিছুটা টান পড়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে তাল মেলাতে কোম্পানিগুলো কাঁচামাল কেনার হারও বাড়িয়েছে, যা গত তিন মাসে সর্বোচ্চ। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে। বিজ্ঞাপন এবং শক্তিশালী অর্ডার বুকের ওপর ভিত্তি করে কোম্পানিগুলো আশা করছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমে আসবে, যা প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
প্রায় ৪০০টি কোম্পানির তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল (S&P Global)-এর এই রিপোর্ট ভারতের শিল্পক্ষেত্রের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।