দেড় লক্ষ মানুষের দেশ! ফিফা বিশ্বকাপে রূপকথার গল্প লিখল কোন ক্ষুদ্র রাষ্ট্র?

২০২৬ সালে ১২ই জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর হতে চলেছে রেকর্ডময়। উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ৪৮টি দেশ। তবে এই মহাযজ্ঞে সবথেকে বড় চমক হয়ে এসেছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও।
ইতিহাস গড়ল কুরাসাও
মাত্র ১ লক্ষ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার এই দেশটি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যোগ্যতা অর্জনকারী ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল আইসল্যান্ডের দখলে। কনকাকাফ বাছাইপর্বে একটি ম্যাচও না হেরে তারা বিশ্বফুটবলের আসরে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ ‘ই’-তে লড়বে জার্মানি, কোত দিভোয়ার এবং ইকুয়েডরের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে।
অভিষেক হতে যাওয়া অন্যান্য দেশসমূহ
কুরাসাও ছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুযোগ পাওয়া অন্য তিনটি দেশ হলো জর্ডান, উজবেকিস্তান এবং কেপ ভার্দে। প্রতিটি দলই নিজ নিজ মহাদেশীয় বাছাইপর্বে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে এই যোগ্যতা অর্জন করেছে:
জর্ডান: এএফসি বাছাইপর্বে দক্ষিণ কোরিয়ার পরেই দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তারা গ্রুপ ‘জে’-তে জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া এবং আলজেরিয়ার মতো দল।
উজবেকিস্তান: বাছাইপর্বের ফাইনালে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তারা স্থান নিশ্চিত করেছে গ্রুপ ‘কে’-তে। যেখানে তাদের লড়তে হবে পর্তুগাল, কলম্বিয়া এবং ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে।
কেপ ভার্দে: বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে তারা খেলবে গ্রুপ ‘এইচ’-এ। তাদের গ্রুপে রয়েছে স্পেন, উরুগুয়ে এবং সৌদি আরবের মতো হেভিওয়েট দল।
ফুটবল প্রেমীদের জন্য ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপটি নিঃসন্দেহে হতে যাচ্ছে এক বিশেষ আকর্ষণ, যেখানে ছোট দলগুলোর অদম্য লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব।