মাসিক নিয়ে আজও কুসংস্কার! রক্ত কি আসলেই ‘দূষিত’? জানালেন বিশেষজ্ঞ

মাসিক বা ঋতুচক্র নারীদের জীবনের একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রক্রিয়া। তবুও আজও সমাজ ও পরিবারের অন্দরে মাসিক নিয়ে রয়ে গেছে হাজারো ভুল ধারণা ও কুসংস্কার। মাসিক চলাকালীন রক্তপাত থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে থাকা সংশয় দূর করতে এগিয়ে এসেছেন বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। ডঃ ডিকে গুপ্তার মতে, পিরিয়ড নিয়ে অস্বস্তি নয়, বরং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা জরুরি।

১. রক্ত কি দূষিত?
অনেকেই মনে করেন মাসিকের রক্ত ‘দূষিত’। এটি সম্পূর্ণ ভুল। জরায়ুর ভেতরের দেওয়ালে প্রতি মাসে যে রক্তের স্তর তৈরি হয়, ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে তা ঝরে পড়ে—এটাই মাসিক। এটি শরীর পরিষ্কারের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কোনো দূষিত রক্ত নিঃসরণ নয়।

২. রক্তের রঙ ও গন্ধ কেন আলাদা?
পিরিয়ডের সময় রক্তের রঙ কালো বা বাদামী হতে পারে। কারণ, রক্ত যখন বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে, তখন এক ধরণের বিক্রিয়া ঘটে। এছাড়া যোনিপথের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার কারণে পিরিয়ডের সময় মৃদু গন্ধ হওয়াও স্বাভাবিক। তবে গন্ধ যদি অসহনীয় ও তীব্র হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. রক্ত জমাট বাঁধা কি চিন্তার বিষয়?
রক্তপ্রবাহ ধীর হয়ে গেলে মাঝে মাঝে ছোট ছোট দলা বা জমাট রক্ত বের হওয়া স্বাভাবিক। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু খুব বেশি রক্তপাত ও বড় বড় রক্ত জমাট বাঁধলে ডাক্তারের সাথে কথা বলা ভালো।

৪. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি:
পিরিয়ডের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অন্তর স্যানিটারি প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন করা উচিত। নিয়মিত প্যাড না বদলালে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও র‍্যাশের ঝুঁকি থাকে। এই সময় সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত।

৫. কাজকর্ম কি বন্ধ রাখা উচিত?
আমাদের সমাজে অনেক জায়গায় পিরিয়ডের সময় মেয়েদের কোনো কাজ করতে মানা করা হয়। বিশেষজ্ঞের মতে, এটি একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা। নারীরা পিরিয়ডের সময় তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও খেলাধুলা অনায়াসেই করতে পারেন। তবে খুব ভারী ওজন তোলা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি আসে এমন কাজ এই সময় না করাই শ্রেয়। হালকা ব্যায়াম বা গরম জলে স্নান পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে দারুণ কার্যকর।

শেষ কথা:
মাসিকের ব্যথা অনেকের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হলেও, যদি সেই ব্যথা তীব্র হয় এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়, তবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। লজ্জা নয়, সচেতনতাই পিরিয়ডের সময় নারীকে সুরক্ষিত রাখতে পারে।