বৈবাহিক বিরোধে পকসো আইনের অপব্যবহার! ১০টিরও বেশি মামলা খারিজ করে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

বিবাহ বা ব্যক্তিগত বিবাদের ক্ষেত্রে ‘যৌন অপরাধ থেকে শিশুদের সুরক্ষা আইন’ বা পকসো (POCSO) আইনের অপব্যবহার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত সাফ জানিয়েছে, আর্থিক সুবিধা আদায় বা প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের কঠোর আইনের অপপ্রয়োগ নিরপরাধ মানুষের জন্য ভয়াবহ দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি বি.ভি. নাগরত্না এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সম্প্রতি ১০টিরও বেশি এমন মামলা খারিজ করে দিয়েছে, যেখানে বৈবাহিক বিরোধের জেরে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পকসো এবং আইপিসি-র ধর্ষণ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। আদালত এই মামলাগুলোকে ‘বানোয়াট’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে অভিহিত করেছে।

বিচারকদের মতে, বিশেষ করে কন্যাশিশুদের পিতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ করার প্রবণতা বাড়ছে, যা মূলত দাম্পত্য কলহের জের ধরে সুবিধা আদায়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রবণতা বিচার ব্যবস্থার ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করছে।

পকসো আইন কী ও এর গুরুত্ব:
২০১২ সালে শিশু সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পকসো আইন প্রণয়ন করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের যৌন শোষণ থেকে রক্ষা করা। আইনের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ী:

ধারা ১২: শিশুদের অশ্লীল ছবি বা ভিডিও দেখানো বা বিদ্বেষপূর্ণ উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা অপরাধ।

ধারা ১৩: গণমাধ্যমে শিশুদের ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা।

ধারা ১৪: প্রথমবার অপরাধের জন্য ন্যূনতম ৫ বছর এবং দ্বিতীয়বার অপরাধের জন্য ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান।

ধারা ১৫: শিশু পর্নোগ্রাফি রাখা বা সে সম্পর্কিত তথ্য গোপন রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ।

আদালতের বার্তা:
পকসো আইন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও শক্তিশালী একটি আইন, যা শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৈরি করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর হাতিয়ার হিসেবে এই আইন ব্যবহার করা হলে তার প্রভাব হবে মারাত্মক। আইনের অপব্যবহার শুধু নিরপরাধ মানুষের জীবন নষ্ট করে না, বরং যারা প্রকৃত ভুক্তভোগী, তাদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তিও কঠিন করে তোলে।

সুপ্রিম কোর্টের এই কঠোর অবস্থানের পর ভবিষ্যতে বৈবাহিক মামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের অভিযোগ দায়েরের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে আশা করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।