বন্ধুর প্রেমে লিঙ্গ পরিবর্তন! বিপিএসসি জয়ী শিক্ষিকার সাথে বিয়ে করে ভাইরাল জামুইয়ের এই দম্পতি

বিহারের জামুই জেলা থেকে উঠে এল এক অভাবনীয় প্রেমের গল্প, যা প্রচলিত সামাজিক প্রথা ও রক্ষণশীল চিন্তাধারাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করাল। দুই বাল্যবন্ধু শুধু একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবেই বেছে নেননি, বরং সম্পর্ককে আইনি ও সামাজিক রূপ দিতে বেছে নিলেন লিঙ্গ পরিবর্তনের মতো সাহসী পথ।

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, তারপর নতুন পরিচয়:
জামুইয়ের লক্ষ্মীপুর ব্লকের বাসিন্দা ন্যান্সি এবং রাখি কুমারী ছোটবেলা থেকেই অবিচ্ছেদ্য বন্ধু ছিলেন। স্কুল ও কলেজ জীবন পার করে এই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে পরিণত হয়। এদিকে, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ন্যান্সি বিপিএসসি (BPSC) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষিকা পদে নিযুক্ত হন। আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার পর ন্যান্সি সিদ্ধান্ত নেন, রাখির সাথে বাকি জীবন কাটাবেন। তাদের এই সম্পর্কের পথে প্রধান অন্তরায় ছিল লিঙ্গ। তাই তারা দিল্লিতে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শে লিঙ্গ পরিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান। হরমোনগত পরিবর্তনের পর রাখি এখন শারীরিকভাবে পুরুষ।

মন্দিরে বিয়ের পিঁড়িতে:
দিল্লি থেকে ফেরার পর মালায়পুর থানার বিখ্যাত পটনেশ্বর মন্দিরে হিন্দু রীতি মেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। ভিডিওতে দেখা যায়, রাখি (বর) এবং ন্যান্সি (কনে) সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান মেনে মালাবদল করছেন এবং সাতপাক ঘুরছেন। বিয়ের পর রাখি তার নববধূ ন্যান্সিকে নিয়ে নিজের পৈতৃক গ্রাম হারলায় পৌঁছালে, তার পরিবার প্রথা মেনে নতুন দম্পতিকে বরণ করে নেয়।

পরিবারে উত্তেজনা:
বরের পরিবার এই বিয়ে মেনে নিলেও, বিপত্তি ঘটেছে কনে ন্যান্সির পরিবারে। বিয়ের খবর পাওয়ার পর থেকেই ন্যান্সির বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজনরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। তারা রাখির বাড়িতে চড়াও হন, কিন্তু ততক্ষণে নবদম্পতি অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেছেন।

এই ঘটনাটি এখন পুরো জামুই জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কেউ একে সাহসের নিদর্শন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তুলে ধরছেন সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দের প্রশ্ন। রক্ষণশীল সমাজে দাঁড়িয়ে দুই নারীর এই প্রেমের লড়াই ও লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ব্যাপকভাবে ভাইরাল।