কেরল বিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক! গানে উঠে দাঁড়ানো নিয়ে পিনারাই বিজয়নের মন্তব্যে তোলপাড়

জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর একটি অংশ বাজানোকে কেন্দ্র করে কেরল বিধানসভায় তৈরি হয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের উপস্থিতিতে বিধানসভার এক অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ গানটি না বাজানোয় প্রোটোকল ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এখন ত্রিমুখী লড়াইয়ে জড়িয়েছে এলডিএফ, ইউডিএফ এবং বিজেপি।

বিতর্কের সূত্রপাত:
বিধানসভার ওই অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর মাত্র একটি অংশ বাজানো হয়। রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, রাজ্যপালের উপস্থিতি যেখানে থাকে, সেখানে প্রোটোকল মেনে সম্পূর্ণ গানটি গাওয়া বা বাজানো বাধ্যতামূলক। তিনি ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে নিজের আপত্তির কথা জানিয়েছেন।

পিনারাই বিজয়নের তোপ:
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা এলডিএফ নেতা পিনারাই বিজয়ন এই বিতর্কে আরএসএস-কে সরাসরি নিশানা করেছেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন:

পুরো ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার কোনো আইনি প্রয়োজনীয়তা নেই।

আরএসএস নিজেদের এজেন্ডা চাপানোর চেষ্টা করছে।

গানটি চলার সময় উঠে দাঁড়ানোর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তবে প্রথা মেনে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়েছিলেন।

বিজেপি ও কংগ্রেসের অবস্থান:
বিজেপি নেতা ভি মুরলীধরন এই ঘটনাকে জাতীয় সংগীতের অবমাননা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর অভিযোগ:

কেন্দ্রের নির্দেশিকা অমান্য করে রাজ্য সরকার জামায়াতে ইসলামী ও সিপিআই(এম)-কে তোষণ করছে।

কংগ্রেসের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন—১৮৯৬ সালে যে কংগ্রেসের মঞ্চে এই গান প্রথম গাওয়া হয়েছিল, আজ সেই দল কেন এই গান নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছে?

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
কেরলের রাজনীতিতে এই ইস্যু এখন কেবল প্রোটোকল ভঙ্গের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একে ঘিরে বিজেপি জাতীয় ঐতিহ্য ও দেশপ্রেমের প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে এলডিএফ এটিকে আরএসএস-এর এজেন্ডা হিসেবে চিহ্নিত করছে। ইউডিএফ সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে কংগ্রেসের নীরবতা বা অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে।

একটি গানের অংশবিশেষ বাজানোকে কেন্দ্র করে কেরলের রাজনীতি এখন দুই মেরুতে বিভক্ত। এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল।