বকেয়া ডিএ-র জট খুলবে আজ? নবান্নে কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী!

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জট কাটাতে তৎপর নবান্ন। আজ, সোমবার বিকেল ৫টায় নবান্নের ১৪ তলার কনফারেন্স রুমে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে সমস্ত কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে তাঁর এই সরাসরি বৈঠক নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা।

বৈঠকে কারা থাকছেন?
প্রশাসন সূত্রে খবর, এই বৈঠকে ডাক পেয়েছে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’, ‘দ্য কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ (INTUC)’, ‘ইউনিটি ফোরাম (অরাজনৈতিক)’ এবং ‘সরকারি কর্মচারী পরিষদ’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলি।

কী কী দাবি সামনে আসতে পারে?
কর্মচারী মহলের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আজকের বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে:

বকেয়া ডিএ: নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করা।

সপ্তম পে কমিশন: সাম্প্রতিক ঘোষিত সপ্তম পে কমিশন কবে থেকে এবং কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা।

শূন্যপদ ও নিয়োগ: সরকারি দফতরগুলিতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা শূন্যপদ পূরণ এবং ২০১৬ সালের এসএসসি (SSC) সংক্রান্ত জটিলতার সুরাহা।

পেনশনভোগীদের সুবিধা: অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া পাওনা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবি।

কেন আজকের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ?
অতীতে কোনো মুখ্যমন্ত্রীর এভাবে সব সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার নজির প্রায় নেই বললেই চলে। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজনৈতিক দল যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আজকের বৈঠকে তাঁরা সেই বিষয়গুলিকেই প্রধান্য দেবেন। এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের আমলে নেওয়া একাধিক বিতর্কিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা এবং বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মীদের কাছে আজকের এই বৈঠকটি অত্যন্ত আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রশাসনিক জট কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন এবং ডিএ-র জট শেষ পর্যন্ত খোলে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগী।