ঠিকা ঝি থেকে মন্ত্রিসভার সদস্য! ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেল আউশগ্রামের কলিতা মাজির জীবন

একেই বলে ভাগ্যচক্র! যে নারী একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন, আজ তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতার অংশ। ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেল পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী কলিতা মাজির জীবন। রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই এখন আলোচনার কেন্দ্রে তিনি।
অভাবের সেই দিনগুলো
ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন কলিতা। অভাবের সংসারে হাল ধরতে একসময় বেছে নিয়েছিলেন পরিচারিকার কাজ। জানা যায়, দুটি বাড়িতে কাজ করে মাসে মাত্র আড়াই থেকে চার হাজার টাকা আয় হতো তাঁর। সেই সামান্য উপার্জনেই চলত জীবনযুদ্ধ। তবে পরিস্থিতি তাঁকে হার মানাতে পারেনি।
রাজনীতির ময়দানে পা রাখা
সমাজের প্রান্তিক মানুষের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখেছেন কলিতা। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে জনসেবার পথে টেনে আনে। সাধারণ মানুষের দাবি ও সমস্যা নিয়ে সরব হতে গিয়েই ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
এক ঐতিহাসিক জয়
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আউশগ্রাম (তপশিলি জাতি সংরক্ষিত) কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপি। নিজের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রচারে ঝড় তোলেন তিনি। নির্বাচনী ফলে তৃণমূল প্রার্থী শ্যামাপ্রসন্ন লোহারকে ১২,৫৩৫ ভোটে পরাজিত করে তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হন। এই জয় কেবল রাজনৈতিক সাফল্য নয়, সমাজের নিচুতলা থেকে উঠে আসা একজন নারীর সংগ্রামের স্বীকৃতিও বটে।
মন্ত্রিসভায় অভিষেক
১ জুন, ২০২৬—কলিতা মাজির জীবনের মোড় ঘোরার দিন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির একটি হলো কলিতা মাজি। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চর্চা।
কেন এই কাহিনী অনুপ্রেরণামূলক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কলিতা মাজির যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং এটি সামাজিক গতিশীলতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। গুসকরার ছোট্ট গলি থেকে রাজ্যের মন্ত্রিসভা—এই দীর্ঘ পথচলা গণতন্ত্রের জয়গান গায়। কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় যে জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে, কলিতা মাজি তার এক জীবন্ত প্রমাণ। এখন তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।