“রাজনীতি নয়, মানুষের সেবাই ধর্ম!”-অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপে নিজেই নেমে পড়লেন CPIM বিধায়ক

রাজনৈতিক বৈরিতা দূরে সরিয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন ডোমকলের CPIM বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান। রাজ্যের নতুন সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর দীর্ঘ ও জটিল ফর্ম ফিলআপ করতে গিয়ে যে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মহিলারা, তাঁদের সাহায্য করতে নিজেই কলম তুলে নিলেন ‘রানাদা’। এই ঘটনাটি বর্তমানে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফর্মের জটিলতায় সাধারণ মানুষ ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর জন্য ১১-১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ৩ হাজার টাকা পাওয়ার আশায় অনেকে ফর্ম পূরণ করতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে এই ফর্ম নিয়ে এনআরসি (NRC)-র মতো কোনো ভয়ের গুঞ্জনও ছড়িয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো ভুয়ো নাম যাতে না ঢোকে, তার জন্যই এই বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কী বলছেন মুস্তাফিজুর? নিজ হাতে মহিলাদের ফর্ম পূরণ করে দেওয়া প্রসঙ্গে বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান bangla.aajtak.in-কে বলেন, “গ্রামের গরিব মানুষ বিভ্রান্তিতে ভুগছেন। তাঁদের এনআরসি-র ভয় থেকে মুক্ত করতেই আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমি তো মানুষের জন্য কাজ করতেই বিধায়ক হয়েছি। আমার কাছে এলে আমি কেন ফিরিয়ে দেব?”
‘সরকার কোনো দলের নয়’ একসময় বামেরা শাসকদলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে ‘দান-খয়রাতি’ বা ‘ভিক্ষা’ বলে কটাক্ষ করলেও, এখন তাঁরাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে সাহায্য করছেন। এ প্রসঙ্গে মুস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট করেন, “BJP-র সঙ্গে আমাদের লড়াই বিধানসভায় বা রাজপথে হবে। কিন্তু সরকারি প্রকল্প তো কোনো রাজনৈতিক দলের নয়। গরিব পরিবার যদি ৩ হাজার টাকা পায়, তা তাঁদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। আমার সমর্থক বা ভোটার, কেউ যেন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই আমার লক্ষ্য।”
উল্লেখ্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও একাধিকবার দলীয় বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন সাধারণ মানুষের ফর্ম ফিলআপে সাহায্য করার জন্য। সেখানে BJP বিধায়কদের আগেই CPIM-এর এই জনপ্রতিনিধির সক্রিয়তা স্থানীয়দের কাছে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছে।