নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন বহু বছর! অডিশনে পাওয়া এক কঠোর মন্তব্য আজও তাড়া করে বেড়ায় নেহাকে

গ্ল্যামার দুনিয়ার চকচকে পর্দার আড়ালে যে কত গভীর মানসিক ক্ষত লুকিয়ে থাকে, তার জ্বলন্ত উদাহরণ অভিনেত্রী নেহা ধূপিয়া। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেরিয়ারের শুরুর দিকের এক যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। এক কাস্টিং ডিরেক্টরের একটি কঠোর ও নেতিবাচক মন্তব্য কীভাবে দীর্ঘ এক দশক ধরে তাঁর আত্মবিশ্বাসে ভাঙন ধরিয়েছিল, তা জেনে স্তম্ভিত নেটিজেনরা।
অডিশন রুমের সেই তিক্ত স্মৃতি: ‘ডবল ডেট’ নামের একটি শো-তে এসে নেহা জানান, ক্যারিয়ারের একদম শুরুতে একটি টিভি শো-এর অডিশন দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় এক কাস্টিং ডিরেক্টর তাঁকে সাফ জানিয়ে দেন, তাঁর হাসি মোটেও আকর্ষণীয় নয় এবং ক্যামেরার সামনে তাঁর হাসা উচিত নয়। এই মন্তব্যের পর থেকেই নিজের হাসিকে নিয়ে চরম হীনম্মন্যতায় ভুগেছেন অভিনেত্রী।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব: নেহা জানান, মিস ইন্ডিয়া খেতাব জয়ের পরেও ওই মন্তব্যের প্রভাবে তিনি জনসমক্ষে বা ক্যামেরার সামনে মন খুলে হাসতে পারতেন না। তিনি বলেন, “ওই একটি মন্তব্য প্রায় আট থেকে দশ বছর ধরে আমার আত্মমর্যাদাকে গ্রাস করেছিল। আমি সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতাম।” দীর্ঘ এই সময়কাল তাঁকে এক অদ্ভুত মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, যা তাঁর আত্ম-ধারণাকে (Self-image) ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল।
বডি শেমিং ও নবাগতদের মানসিক চাপ: বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিতে নবাগতদের উপর যে অপরিসীম মানসিক চাপ থাকে, তা নিয়ে সরব হয়েছেন নেহা। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিনোদন জগতের দায়িত্বহীন নেতিবাচক মন্তব্য একজন তরুণ বা তরুণীর মনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিনেত্রীর এই স্বীকারোক্তি সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। গ্ল্যামার ইন্ডাস্ট্রির ‘নিখুঁত’ হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে যে কত প্রতিভা প্রতিনিয়ত মানসিক চাপের মুখে পড়ে, নেহার এই বয়ান তার এক বড় প্রমাণ।