‘ফর্ম ফিলআপ নিয়ে দুশ্চিন্তা ছাড়ুন!’ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা বন্টনে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের নতুন ও হাই-প্রোফাইল জনকল্যাণ প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে কৌতূহল ও কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা দূর করতে শনিবার ময়দানে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘোষণা করেছেন, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য মহিলাদের আর কোথাও দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না।

বাড়িতেই পৌঁছবেন সরকারি প্রতিনিধি:
ফর্মের দীর্ঘ তালিকা ও জটিলতা নিয়ে রাজ্যের মহিলারা যে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন, তা লাঘব করতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “যাঁরা ফর্ম পূরণ করতে পারছেন না, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়িতে সরকারি প্রতিনিধিরা যাবেন। তাঁরাই যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে ফর্ম পূরণ করে দিয়ে আসবেন।” সুতরাং, কোনো গুজবে কান না দিয়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সহযোগিতার অপেক্ষায় থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

দ্রুত টাকা বন্টনের লক্ষ্য:
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২ জুনের মধ্যে যে সমস্ত আবেদন জমা পড়বে, দ্রুত সেই নথিপত্র যাচাই বা স্ক্রুটিনি করা হবে। এরপর ৩ জুনের মধ্যেই প্রথম কিস্তির ৩ হাজার টাকা উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। প্রকল্পের গতি বাড়াতে সরকার এই ‘টাইমলাইন’ কঠোরভাবে মেনে চলছে।

ডিসিপ্লিন ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার বার্তা:
প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো এই প্রকল্পে কোনো জালিয়াতি বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কোনও অ-ভারতীয় বা পুরুষদের অ্যাকাউন্টে এই টাকা যাবে না। অতীতে যে সকল পুরুষ নিয়ম ভেঙে এই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছিলেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।” প্রকৃত যোগ্য মা-বোনেদের খুঁজে বের করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এবং সংকল্প পত্রে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ধাপে ধাপে পূরণ করা হবে বলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেছেন।

সম্পাদকীয় দৃষ্টিভঙ্গি:
সরকারের এই নতুন উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে গৃহস্থ মহিলাদের দুশ্চিন্তা অনেকটা কমিয়ে দেবে। বিশেষ করে, দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা প্রকল্পের কার্যকারিতা অনেকগুণ বাড়িয়ে তুলবে। যোগ্য উপভোক্তারা যাতে দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে এই আর্থিক সুবিধা পান, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সাধারণ মানুষ।