ব্যান পিরিয়ডে মাছ ধরার ছড়াছড়ি! গভীর রাতে বিপুল মাছসহ ট্রলার আটক পাথরপ্রতিমায়

সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান পিরিয়ড’ উপেক্ষা করে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অভিযোগ উঠল একটি ট্রলারের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থানার রামগঙ্গা ঘাট এলাকায় গভীর রাতে বিপুল মাছবোঝাই একটি ট্রলার আটক হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত:
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে যাতে মাছের প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। এই নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেই গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে গোপনে রামগঙ্গা ঘাটে ফেরার পথে ট্রলারটিকে সন্দেহজনকভাবে লক্ষ্য করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীরা নিজেরাই ট্রলারটিকে ঘিরে ফেলেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই ট্রলারে প্রায় ৬৩ ক্যারেট মাছ ছিল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ।

প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ট্রলারের মাঝি ও এক সহযোগীসহ মোট দুজনকে পুলিশ আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সহ-মৎস্য আধিকারিক সুরজিৎ বাগ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ওই ট্রলারের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মালিক ও মাঝির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ক্ষোভে স্থানীয়রা:
স্থানীয় বাসিন্দা অসিত বরণ গিরি জানান, প্রজননের এই সময়টি মাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু অসাধু চক্র প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে বারবার এই নিয়ম অমান্য করে মাছ ধরছে এবং তা কলকাতার বিভিন্ন বাজারে পাচার করছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘ দিন ধরেই এই অবৈধ কারবার চলছে, যার ফলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তদন্ত ও ভবিষ্যৎ:
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে যেমন ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তেমনই প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যান পিরিয়ড চলাকালীন কীভাবে দিনের পর দিন এই ধরণের অবৈধ মাছ ধরার কাজ চলছে এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র জড়িয়ে আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও মৎস্য দফতর।

এদিকে, দীর্ঘক্ষণ ঘাটে পড়ে থাকায় বিপুল পরিমাণ ওই মাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন এখন মাছগুলি সংরক্ষণের পাশাপাশি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। পাথরপ্রতিমার এই ঘটনা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার নিরাপত্তা ও মৎস্যসম্পদ রক্ষার বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল।