‘রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে!’ সায়নীর প্রয়াণে ভণ্ডামির মুখোশ খুললেন দেবলীনা নন্দী

সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা পশুপ্রেমী সায়নী চক্রবর্তীর আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া টলিপাড়া থেকে নেটপাড়ায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর যখন সোশাল মিডিয়ায় শোকের ঢল, ঠিক তখনই নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এক বিস্ফোরক পোস্ট করলেন অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দী। ট্রোলিং সংস্কৃতি এবং তথাকথিত ‘নীতিপুলিশ’দের ভণ্ডামির মুখোশ খুলে দিয়ে তিনি সমাজকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করালেন।
‘বুকের যন্ত্রণা আমি বুঝি’
সায়নীর সঙ্গে কাটানো স্বল্প মুহূর্তের কথা স্মরণ করে দেবলীনা লিখেছেন, সায়নী কী গভীর যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা বাইরের মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব। তিনি ক্ষোভের সাথে যোগ করেন, “যে মানুষগুলো আজ সায়নীর জন্য মায়াকান্না কাঁদছেন, তারাই হয়তো সায়নী বেঁচে থাকলে তাকে কটাক্ষ করে তিলে তিলে মেরে ফেলতেন। এই ঘটনা আমার সাথেও ঘটছে।”
‘রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে’
দেবলীনা নিজেই কয়েক মাস আগে মানসিক অবসাদের বশবর্তী হয়ে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি জানান, পরিবার ও আপনজনদের ভালোবাসায় তিনি আজ বেঁচে আছেন। কিন্তু সোশাল মিডিয়ায় এক শ্রেণির মানুষ তাঁকে এখনো প্রতিনিয়ত ট্রোল করে চলেছেন। দেবলীনার কথায়, “আমি কিছুক্ষণের জন্য নিজের অস্তিত্ব ভুলে ভুল করেছিলাম। আজ অনেকেই চায় আমি মরে যাই, রোজ রোজ তারা আমাকে মারতে চাইছে।”
জাজমেন্টাল সমাজের দিকে আঙুল
অভিনেত্রী সায়নীর উদ্দেশ্যে এক দিদিসুলভ বার্তা দিয়ে লিখেছেন, “আমরা দুজনেই ভুল করতে চেয়েছিলাম। তবে আজ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন মা। এই সমাজ বড্ড বেশি ‘জাজমেন্টাল’। ভালো কাজেও তারা খারাপ খুঁজে বেড়ায়।” যারা প্রতিনিয়ত অন্যের জীবন নিয়ে কাটাছেঁড়া করেন, সেইসব নীতিপুলিশদের প্রতি তাঁর ঘৃণা ও হতাশা এই পোস্টে স্পষ্ট।
সতর্কবার্তা কি মিলবে?
সায়নীর চলে যাওয়া এবং দেবলীনার এই করজোড় স্বীকারোক্তি যেন সোশাল মিডিয়ার বিষাক্ত ট্রোলিং সংস্কৃতির গায়ে এক বড় চপেটাঘাত। একটি মানুষের মানসিক অবস্থা না বুঝেই তাকে আক্রমণ করার এই প্রবণতা যে কত বড় অপরাধ এবং তা কীভাবে একটি প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, দেবলীনার এই খোলা চিঠি সমাজকে সেই প্রশ্নই আরও একবার মনে করিয়ে দিল।
প্রতিটি মানুষের ব্যক্তিগত লড়াই থাকে, সেই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ানোর বদলে যখন সমাজ ক্রমাগত আঙুল তোলে, তখন জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। দেবলীনা নন্দীর এই সাহসী পোস্ট কি কিছুটা হলেও নেটপাড়ার ‘অসংবেদনশীলতা’ কমাতে সাহায্য করবে? এখন সেটাই দেখার বিষয়।