অন্নপূর্ণা যোজনা! আবেদন করার শেষ সুযোগ ২ জুন! নিয়ম না মানলেই বন্ধ হতে পারে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা

রাজ্যে নতুন করে চালু হওয়া ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াতে রাজ্য সরকারের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প নিয়ে এখন সর্বত্র সাজ সাজ রব। বিডিও অফিস, পুরসভা থেকে শুরু করে সাইবার ক্যাফে—সব জায়গাতেই ফর্ম তোলার হিড়িক। তবে আবেদনকারীদের মনে মূল দুশ্চিন্তা একটাই, আবেদনের সময়সীমা এবং আবেদনের নিয়মাবলি।

আবেদনের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে হলে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। বর্তমানে আবেদনের জন্য ৯০ দিনের একটি উইন্ডো খোলা হয়েছে।

অফলাইন আবেদন: ২৭ মে থেকে ফর্ম বিতরণ শুরু হয়েছে।

অনলাইন আবেদন: ২৯ মে থেকে অনলাইনে ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছে।
আপনার নিকটস্থ বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা বা ওয়ার্ড অফিস থেকে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাচ্ছে।

জুন মাসে ৩০০০ টাকা পাওয়ার উপায়
যারা চলতি জুন মাসেই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩০০০ টাকা পেতে চান, তাদের জন্য সময় খুব কম। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ২ জুনের মধ্যে যারা আবেদনপত্র জমা করবেন, শুধুমাত্র তারাই জুন মাসের কিস্তি পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ৩ জুন থেকে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) পদ্ধতিতে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: যারা ইতিমধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন, তারা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম জমা দিতে দেরি করলেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা পেতে কোনো সমস্যা হবে না।

সতর্কতা: ফর্মে ভুল তথ্য দিলে কী হবে?
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মটি বেশ বিস্তারিত, যেখানে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বার্ষিক আয়, ব্যাঙ্ক ডিটেইলস এবং জমিজমার মতো তথ্যের উল্লেখ করতে হচ্ছে। সরকারি সূত্রে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ১২ পাতার এই ফর্মে কোনো ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের মতে, ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কেবল এই প্রকল্প নয়, বরং রাজ্য সরকারের অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। তাই ফর্ম জমা দেওয়ার আগে প্রতিটি তথ্য দুবার যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।