মরুভূমির বুকে রহস্যময় অষ্টভুজ! চিনের পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে শোরগোল বিশ্বজুড়ে

পরমাণু শক্তিকে আরও অপরাজেয় ও সুরক্ষিত করে তুলতে মরিয়া চিন। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে উত্তর-পশ্চিম চিনের জিনজিয়াং প্রদেশের হামি (Hami) এলাকায় এক বিশাল সামরিক পরিকাঠামোর সন্ধান পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যা কার্যত চিনের পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতির নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

কী রয়েছে হামির গোপন ঘাঁটিতে?
কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত মরুভূমি জুড়ে এই নতুন সামরিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে ৮০টিরও বেশি কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে, যা মূলত মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ইউনিটের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে উন্নত উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট এবং একাধিক ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার-সমৃদ্ধ কমান্ড সেন্টার।

বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে ওই প্রকল্পের কেন্দ্রে থাকা দুটি বিশাল ‘অষ্টভুজাকৃতি’ স্থাপনা। কার্নেগি এন্ডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গবেষক টং ঝাও-এর মতে, এই কাঠামো এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাওয়ারগুলো মূলত চিনের পরমাণু বাহিনীর ‘কমান্ড, কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন’ (C3) ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য তৈরি।

কেন এই ভয়ংকর প্রস্তুতি?
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা যদি কখনও চিনের ওপর ‘ফার্স্ট স্ট্রাইক’ বা প্রথম দফার পরমাণু হামলা চালায়, তবে তা সামলে নিয়ে পাল্টা আঘাত হানার ক্ষমতা (Second Strike Capability) বজায় রাখতেই বেইজিং এই প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে দ্রুত গতিতে পরমাণু শক্তি বৃদ্ধি করছে চিন। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের হাতে ১,০০০টি পরমাণু ওয়ারহেড থাকতে পারে।

উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার
চিনের হাতে এখন ‘হুওয়ান-১’ (Huoyan-1) নামক এক শক্তিশালী উপগ্রহ-ভিত্তিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই তা শনাক্ত করতে সক্ষম এই প্রযুক্তি। শনাক্তকরণের ৩-৪ মিনিটের মধ্যেই সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে কমান্ড সেন্টারে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রভাব
রাশিয়া বা আমেরিকার পরমাণু কৌশল মূলত সাইলো-ভিত্তিক হলেও, চিন ধাপে ধাপে একটি বহুমাত্রিক এবং সমন্বিত পরমাণু প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তুলছে। এই নতুন কৌশল কেবল এশিয়া নয়, বরং বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

এই বিশাল সামরিক পরিকাঠামো কি তবে এক নতুন স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত? বিশ্বমঞ্চে চিনের এই রণসজ্জা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।