রাজ্যে কালবৈশাখীর তাণ্ডব! মৃত ৭, পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

শুক্রবারের আচমকা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড দক্ষিণবঙ্গ। প্রবল ঝড়, বৃষ্টি ও বজ্রপাতে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৭ জন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি মৃতদের পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদানের কথা ঘোষণা করেছেন।

কীভাবে ঘটল প্রাণহানি? প্রশাসন সূত্রে খবর, মৃতদের অধিকাংশই বজ্রপাত, দুর্বল বাড়ি ভেঙে পড়া এবং ঝড়ের সময় খোলা জায়গায় থাকার ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ রেলে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েও প্রাণ হারিয়েছেন। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও পুরুলিয়া জেলায় এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় সবথেকে বেশি প্রভাব ফেলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক ও স্থানীয় বিধায়কদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত স্বজনহারা পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছায়। এছাড়াও যারা এই দুর্যোগে আহত হয়েছেন, তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য সরকার এবং তাদের জন্যও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

উদ্ধারকাজ ও প্রশাসনিক নজরদারি শহর কলকাতা ও বিধাননগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। কলকাতা ও বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের বিপর্যয় মোকাবিলা দল এবং পুলিশ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো উদ্ধারকাজটি পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সবুজের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশবিদদের উদ্বেগ শহরের বুকে একসঙ্গে এত গাছ উপড়ে পড়ায় পরিবেশবিদরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের মুখ্যসচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন বন দপ্তর, পরিবেশ দপ্তর ও কলকাতা কর্পোরেশনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে আগামী দিনে গাছ রক্ষার বিষয়ে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করতে।

রাজ্যবাসীকে আপাতত আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা মেনে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।