কালবৈশাখীর তাণ্ডবে মৃত্যুমিছিল! মৃতদের পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

শুক্রবার দুপুরের আকস্মিক ও বিধ্বংসী কালবৈশাখীর দাপটে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির জেরে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত, বহু জায়গায় উপড়ে পড়েছে গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে মৃতদের পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছে।
ক্ষতিপূরণের ঘোষণা শুক্রবার সন্ধ্যায় নবান্নে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কালবৈশাখীতে মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হবে। এছাড়া এই ঘটনায় যারা আহত হয়েছেন, তাদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে আহতদের জন্য সহায়তার পরিমাণ কত হবে, তা দ্রুত চূড়ান্ত করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।
বিপর্যস্ত দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, কালবৈশাখীর প্রকোপ সবথেকে বেশি দেখা গেছে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে (ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার), বহু রাস্তা দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গাছ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ ও পানীয় জল পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্যও জেলা প্রশাসনগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব? বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর গরমের শেষে কালবৈশাখী বাংলার পরিচিত আবহাওয়া হলেও, এবারের ঝড়ের তীব্রতা ছিল অস্বাভাবিক। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্রমশ আরও বেশি ভয়ঙ্কর রূপ নিচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা।
আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পরিস্থিতির ওপর নবান্ন থেকে সরাসরি নজর রাখা হচ্ছে। প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের অগ্রাধিকার এখন শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনা।