‘সই করা অন্যায়, অন্যায়ে আপোষ নয়’, বিধানসভার সই-কাণ্ডে বড় প্রতিক্রিয়া শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সাম্প্রতিক এক ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা সংক্রান্ত একটি রেজোলিউশন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উঠেছে বিধায়কদের সই জালের মতো গুরুতর অভিযোগ। এই ঘটনায় সিআইডি তদন্তের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে খবর।
সই জালের অভিযোগের নেপথ্যে:
তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে একটি রেজোলিউশন বিধানসভায় জমা দেওয়ার কথা ছিল। অভিযোগ, সেখানে ৭০ জন বিধায়কের যে সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার মধ্যে বেশ কয়েকজনের সই জাল করা হয়েছে। খোদ বিধায়করাই দাবি করেছেন যে, তাঁরা ওই রেজোলিউশনে সই করেননি। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি শীর্ষ নেতৃত্বের অগোচরেই দলের ভেতরেই কেউ এই জালিয়াতি করেছে?
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অবস্থান:
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ একাধিক বিধায়কের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শোভনদেব বলেন:
“অন্যের সই করা অন্যায়। আমি অন্যায়কে সমর্থন করি না—সে আমি বিরোধী দলনেতা থাকি বা না থাকি।”
তবে একই সঙ্গে তিনি বিধানসভার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বিষয়টি নিয়ে ‘অতি সক্রিয়তা’ দেখানো হচ্ছে।
আইনি জটিলতার আশঙ্কা:
জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮এ (8A) ধারা অনুযায়ী, সই জালের মতো জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধায়কের পদ খারিজ পর্যন্ত হতে পারে। সিআইডি এই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। যদি এই জালিয়াতি প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বিধায়কদের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন:
প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, তিনি পরোক্ষভাবে দলের ভেতরের জালিয়াতি মেনে নিলেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। একদিকে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা না পাওয়া এবং অন্যদিকে সই জালের মতো বিতর্ক—সব মিলিয়ে বিধানসভায় তৃণমূলের অন্দরে যে অস্বস্তি বাড়ছে, তা স্পষ্ট।
এখন দেখার বিষয়, সিআইডি তদন্তে ঠিক কী উঠে আসে এবং বিধানসভার অন্দরের এই সই-কাণ্ডের শেষ কোথায়!