ধূমপান ছাড়তে পারছেন না? জেনে নিন কেন ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট নয়!

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ২৬ কোটি মানুষ তামাক সেবনের সঙ্গে যুক্ত। স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়লেও, ধূমপান ছাড়ার হার অত্যন্ত হতাশাজনক। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯৫ জনই বিভিন্ন প্রচেষ্টার পরেও শেষ পর্যন্ত আবার ধূমপানের নেশায় ফিরে আসেন। ৩১শে মে ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’-এর প্রাক্কালে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—মানুষ কেন ধূমপান ছাড়তে এত ব্যর্থ হচ্ছে?
নিকোটিন বনাম দহন: বড় ভুল ধারণা
অধিকাংশ মানুষের ধারণা, ধূমপানজনিত সমস্ত অসুখের মূল কারণ নিকোটিন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পদকপ্রাপ্ত এমেরিটাস অধ্যাপক ড. কার্ল ফাগারস্ট্রমের মতে, এটি একটি বড় ভুল ধারণা। তার মতে, “নিকোটিন আসক্তি তৈরি করলেও, শরীরের আসল ক্ষতি করে তামাক পোড়ানোর সময় নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া এবং রাসায়নিক উপাদান। অর্থাৎ, দহন প্রক্রিয়াই হলো যাবতীয় রোগের মূল উৎস।”
ইচ্ছাশক্তিই কি সব?
বিশেষজ্ঞরা একমত যে, ধূমপান ছাড়ার বিষয়টি কেবল ইচ্ছাশক্তির ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না। এটি একটি চিকিৎসাগত অবস্থা। ধূমপান ছাড়ার সময় শরীরে যে প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ (Withdrawal Symptoms)—যেমন অস্থিরতা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, অনিদ্রা বা মনোযোগের অভাব—তৈরি হয়, তার মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর এখানেই অধিকাংশ ধূমপায়ী হেরে যান।
নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি: সাফল্যের নতুন পথ
গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো প্রকার সহায়তা ছাড়া একা ধূমপান ছাড়ার চেষ্টার তুলনায় ‘নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ (NRT) ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাফল্যের হার ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি। নিকোটিন গাম বা লজেঞ্জের মতো উপকরণগুলো ধূমপানের তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ক্রেভিং কমাতে সাহায্য করে। অধ্যাপক ফাগারস্ট্রমের মতে, ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সঠিক পরিমাণে নিকোটিনের সহায়তা নেওয়া খুবই কার্যকর।
তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রায় থাবা
ধূমপানের কুফল এখন আর শুধু দীর্ঘমেয়াদী রোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এটি বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলছে। শারীরিক শক্তির অভাব, শ্বাসকষ্ট, ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক চাপ সামলাতে না পারার মতো সমস্যাগুলো এখন অল্প বয়সীদের মধ্যেও প্রকট হচ্ছে।
ভারতে ফিটনেস সচেতনতা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু তামাকের এই গভীর আসক্তি মোকাবিলায় কেবল সচেতনতা যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি। ধূমপান ছাড়ার লড়াইয়ে যারা লড়ছেন, তাদের জন্য সঠিক পেশাদার পরামর্শ এবং আধুনিক থেরাপিই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি।