লখনউয়ের এনজিও হোস্টেলে রহস্যমৃত্যু ছাত্রীর, পুলিশকে না জানিয়েই দেহ নিয়ে হরিদ্বার রওনা! তোলপাড়

উত্তর প্রদেশের লখনউতে একটি এনজিও হোস্টেলে থাকাকালীন এক ছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, পুলিশকে না জানিয়েই ওই ছাত্রীর দেহ দাহ করার জন্য হরিদ্বারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মাঝপথে পুলিশ গাড়িটি আটক করে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় এনজিও এবং হোস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঘটনার বিবরণ:
মৃত ছাত্রীর নাম পারুল সাক্সেনা। তিনি মূলত কুশীনগরের বাসিন্দা ছিলেন। জানা গেছে, কোভিড মহামারীর সময় পারুলের মা মারা যান। এরপর থেকে তাঁর বাবা অভিষেক সাক্সেনা ঋষিকেশে গাড়িচালকের কাজ করতেন এবং পারুল লখনউয়ের গোমতি নগরের সৃজন বিহার কলোনিতে অবস্থিত এক এনজিও হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছিলেন।

কী দাবি কর্তৃপক্ষের?
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৮ ও ২৯ মে-র মধ্যবর্তী রাতে রিতেশ রঞ্জন চৌবে নামে এক ব্যক্তি থানায় গিয়ে জানান যে, পারুল আত্মহত্যা করেছেন। হোস্টেল কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ ডা. সুশীল ত্রিবেদীর দাবি, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ওই ছাত্রী নিজের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। এরপর হোস্টেলের লোকজনই দেহটি নামিয়ে আনেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তড়িঘড়ি তা হরিদ্বারে দাহ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন।

পুলিশের পদক্ষেপ:
তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপর হয় গোমতি নগর পুলিশ। মাঝপথ থেকে গাড়িটি ফিরিয়ে আনা হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়েছে। আপাতত দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কেন দাহ করার তাড়াহুড়ো?
এই ঘটনার পর থেকেই হোস্টেল প্রশাসনের কার্যকলাপে গুরুতর সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর খবর পুলিশকে না জানিয়ে কেন সরাসরি দাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এটি সত্যিই আত্মহত্যা কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে। এনজিওটির কার্যপদ্ধতি নিয়েও শুরু হয়েছে তদন্ত।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার পরই এই রহস্যমৃত্যুর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।