সবুজসাথী-কন্যাশ্রীর পরেও বাল্যবিবাহ কেন কমছে না? উদ্বেগজনক রিপোর্ট প্রকাশ্যে

বাল্যবিবাহের হার নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এল কেন্দ্রীয় সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্টে। রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার ‘স্যাম্পেল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিপোর্ট ২০২৪’-এ দেখা যাচ্ছে, বাল্যবিবাহ রোধে দেশজুড়ে যে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ বেশ পিছিয়ে রয়েছে।
কী বলছে কেন্দ্রীয় রিপোর্ট?
রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা দেশে বাল্যবিবাহের গড় হার ২.১ শতাংশ। অথচ পশ্চিমবঙ্গে এই হার দাঁড়িয়েছে ৬.৩ শতাংশে, যা জাতীয় গড়ের প্রায় তিনগুণ। রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়, মাত্র ৪৯.২ শতাংশ মহিলার ক্ষেত্রে বিয়ের বয়স ২১ বছর বা তার বেশি। অর্থাৎ, রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি মহিলার বিয়ে ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সম্পন্ন হচ্ছে।
পরিসংখ্যানের গোলকধাঁধা:
১৮-২০ বছর বয়স: এই বয়সের মধ্যে বিয়ের হার রাজ্যে ৪৪.৫ শতাংশ।
শহর বনাম গ্রাম: রিপোর্টে স্পষ্ট, শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি।
জাতীয় প্রেক্ষাপট: দেশের নিরিখে বাল্যবিবাহের হার নেই বললেই চলে দিল্লিতে। অন্যদিকে, কেরল এই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জাতীয় স্তরে মহিলাদের বিয়ের গড় বয়স বর্তমানে ২৩.১ বছর।
সরকারের দাবি বনাম বাস্তবের ছবি:
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কন্যাসন্তানদের সুরক্ষায় ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’ এবং ‘সবুজসাথী’র মতো একাধিক প্রকল্পের প্রচার চালানো হয়। কিন্তু এই প্রকল্পগুলো সত্ত্বেও বাল্যবিবাহের হার কেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে, কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির সঙ্গে রাজ্যের প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও দীর্ঘদিনের।
কেন এই পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাল্যবিবাহ কেবল একটি সামাজিক কুপ্রথা নয়, এর সাথে জড়িয়ে আছে গভীর স্বাস্থ্যঝুঁকি। রিপোর্ট অনুসারে, বাল্যবিবাহের ফলে স্কুল ড্রপআউট বা স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আর্লি প্রেগন্যান্সি বা কম বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাতৃমৃত্যুর হার এবং শিশুদের শারীরিক বিকাশের ওপর।
অন্যদিকে, বিয়ের পর উচ্চশিক্ষার সুযোগ কতজন মহিলা পাচ্ছেন, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যের অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি নারী ২১ বছর বয়সের আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন, যা উচ্চশিক্ষার পথকে সংকুচিত করছে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ।