দলীয় কার্যালয় খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ! ভেতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে সরকারি ত্রাণ—উদ্ধার নিয়ে শোরগোল

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার একের পর এক সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে সিপিএমের দখলমুক্ত পার্টি অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সরকারি সরঞ্জাম, অন্যদিকে গঙ্গাসাগরে তৃণমূল কর্মীর দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী।

সার্ভে পার্কে সিপিএমের কার্যালয়ে ‘ভাণ্ডার’
২০২০ সালে সার্ভে পার্কের রাজাপুর ডি ব্লকে সিপিএমের এই পার্টি অফিসটি তৃণমূল কংগ্রেস দখল করেছিল বলে অভিযোগ। ২৬-এর নির্বাচনের পর পালাবদলের প্রেক্ষিতে বাম কর্মী-সমর্থকরা অফিসটি পুনরুদ্ধার করতে গেলে ভেতরকার দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান। সেখানে দেখা যায়, রাজনৈতিক কার্যালয়ের আড়ালে থরে থরে সাজানো রয়েছে অক্সিজেন সিলিন্ডার, ত্রাণের ত্রিপল, পুরসভার বালতি এবং পঞ্চায়েতের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিল। ঘটনার খবর পেয়ে সার্ভে পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আপাতত কার্যালয়টিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চায়েতের সরকারি ফাইল এবং ত্রাণ সামগ্রী কেন একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ে মজুত ছিল, তা নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।

গঙ্গাসাগরে ত্রাণ চুরির অভিযোগ
শুধু কলকাতাই নয়, গঙ্গাসাগরের খাস রামকর চর এলাকা থেকেও উঠে এসেছে একই চিত্র। স্থানীয় ৬৫ নম্বর বুথের তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতির দোকান থেকে ৪৩টি ত্রিপল, ১১ বস্তা মাছের খাবার, ১৩ বস্তা চুন এবং ২ বস্তা মিস উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর গায়ে সরকারি সিলমোহর এবং বিভিন্ন এনজিওর নাম থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্তের সাফাই
বিতর্কের মুখে পড়ে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী ভূপতি মাইতি দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, “এই সামগ্রীগুলি আমার নয়। ওই এলাকার তৃণমূলের বুথ সভাপতি ভোটের আগে নিজের দায়িত্বে এই জিনিসগুলো আমার দোকানে রেখে গিয়েছিলেন।”

এই ঘটনাগুলো কি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি সরকারি ত্রাণ আত্মসাতের একটি বৃহত্তর চক্র কাজ করছে? সরকারি ফাইল ও ত্রাণ সামগ্রী রাজনৈতিক কার্যালয়ে কীভাবে পৌঁছল, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে তদন্তের দাবি জোরদার হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া নথিগুলি খতিয়ে দেখলেই আসল সত্য সামনে আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।