অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলাপে বড় সতর্কতা! সামান্য ভুলেই বাতিল হবে আবেদন, হতে পারে আইনি সমস্যাও

রাজ্যের মহিলাদের জন্য সুখবর। জুন মাস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তারা প্রতি মাসে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রকল্পের ফর্ম ইতিমধ্যেই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে এবং আজ থেকে তা অফলাইনেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে আবেদন করার আগে বেশ কিছু জরুরি নিয়ম মাথায় রাখা প্রয়োজন।

কীভাবে পাবেন ফর্ম?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে টানা ৯০ দিন এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে। বিডিও অফিস, পুরসভা এবং কর্পোরেশনের ওয়ার্ড অফিস থেকে ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়া পঞ্চায়েত আধিকারিক ও সুপারভাইজাররা বাড়ি বাড়ি গিয়েও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা:
নতুন এই প্রকল্পের জন্য একটি ১৩ পাতার ফর্ম প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের বিস্তারিত তথ্য এই ফর্মে প্রদান করতে হবে।

সতর্কতা: ভুল তথ্য দিলে আবেদন তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, ভুল তথ্য প্রদানকারী আবেদনকারীকে ‘ব্ল্যাকলিস্টেড’ করার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে ভবিষ্যতে সরকারি কোনো প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া অসম্ভব হতে পারে।

আয়ের তথ্য: ফর্মের ৫, ৬ এবং ৭ নম্বর পাতায় পেশা ও আয় সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। ভুল তথ্য দিলে আইনি জটিলতাও হতে পারে।

কারা পাবেন না: যারা আয়কর প্রদান করেন এবং যারা নাগরিকত্ব সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করেন না, তারা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হবেন না।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার উপভোক্তাদের জন্য নতুন নিয়ম:
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যারা বর্তমানে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাদেরও নতুন করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র জন্য আবেদন করতে হবে। সরকারি ভেরিফিকেশনের পর নাম চূড়ান্ত হলেই তবেই মাসে ৩ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেলেও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে নতুন আবেদনের ওপরই নির্ভর করতে হবে।

পরামর্শ: আবেদনকারীকে ফর্মে দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করে তবেই জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। তাড়াহুড়ো করে ফর্ম পূরণ না করে প্রতিটি তথ্য সঠিক কি না তা পুনরায় চেক করে নেওয়া জরুরি।