বাংলায় কি আমুলের বড় বিনিয়োগ? ৬৫০ কোটির মেগা প্রকল্পের খবরে শোরগোল!

বাংলায় শিল্পায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান কি তবে ঘটতে চলেছে? অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের সঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বৈঠকের রেশ কাটতে না কাটতেই, রাজ্যে বড়সড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। সূত্রের খবর, দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা আমুল (Amul) বাংলায় প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল খবর
আমুলের এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন বিজেপি নেতার পোস্টে এই বিনিয়োগের দাবি জোরালো হয়েছে। মুর্শিদাবাদের বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে ৬৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে আসছে আমুল। এর ফলে তৈরি হবে কর্মসংস্থান এবং শক্তিশালী হবে রাজ্যের দুগ্ধ পরিকাঠামো।” যদিও এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

কী হতে চলেছে এই প্রকল্পে?
বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্যে আমুল তাদের নিজস্ব মালিকানাধীন একটি পূর্ণাঙ্গ ‘ডেয়ারি প্রসেসিং প্ল্যান্ট’ তৈরি করতে চলেছে। নির্বাচনী ইস্তাহারে বিজেপি যে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই বিনিয়োগ সেই লক্ষ্যের দিকেই একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দত্তর মতে, “সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছিল। তারই ফলস্বরূপ আমুলের মতো সংস্থার এগিয়ে আসা অত্যন্ত ইতিবাচক। পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এমন বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠিত হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সহায়ক হবে।”

শিল্পের লক্ষ্যে নতুন মানচিত্র
শিল্পায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য বিজেপি। ইতিমধ্যে শিল্পতালুক তৈরির জন্য পাঁচটি জায়গাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকাটি অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের কাছে জমা দিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। বিশেষ উল্লেখ্য যে, এই তালিকার মধ্যে রয়েছে সিঙ্গুরের নামও। এছাড়া অশোকনগর, রানাঘাট, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামকেও শিল্প সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এখন প্রশাসনিক মহলের নজর, আমুলের এই বিনিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার কবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করে। শিল্পের এই নতুন দিশা কি সত্যিই বাংলায় কর্মসংস্থানের ছবি বদলে দেবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।