পাঁচ বছর আগের টুইট নিয়ে কেন এফআইআর? পরমব্রতর মামলায় বড় নির্দেশ আদালতের

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক মন্তব্য ঘিরে চলা দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মামলায় বড়সড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহ অভিনেতার বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেপ্তারি করা যাবে না।

কী জানাল আদালত?
হাইকোর্ট পরমব্রতর এফআইআর খারিজের আবেদন সরাসরি মঞ্জুর না করলেও, তাঁকে সাময়িক সুরক্ষা প্রদান করেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আপাতত চলবে। পুলিশকে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং পরমব্রতকেও সেই তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। বিচারপতি রাজ্য সরকারকে পরবর্তী শুনানির দিন তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।

পুরনো পোস্ট নিয়ে কেন বিতর্ক?
২০২১ সালের ২ মে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের দিন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মন্তব্য করেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) গড়িয়াহাট থানায় সেই মন্তব্যের জেরেই অভিনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন আইনজীবী জয়দীপ সেন। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ওই মন্তব্য ভোট-পরবর্তী হিংসায় প্ররোচনা দিয়েছিল, যা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়েছিল।

আদালতে পরমব্রতর আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “পাঁচ বছর আগের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে এতদিন পর কেন এই অভিযোগ? এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।” তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ১০৯ ধারায় দায়ের হওয়া এই এফআইআর খারিজ করার আবেদন জানান।

স্বস্তিকার হাজিরা ও বিতর্ক:
উল্লেখ্য, এই একই বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, পরমব্রতর সেই মন্তব্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনিও। সেই প্রেক্ষিতেই পুলিশ দুই তারকাকে নোটিশ পাঠিয়েছিল। ইতিমধ্যে গত সপ্তাহে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় জিজ্ঞাসাবাদপর্ব কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, পরমব্রত আইনি সুরক্ষার খোঁজে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় দুই তারকা ও পুলিশ প্রশাসন। তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করবে এই বিতর্কের ভবিষ্যৎ।