মুখ্যমন্ত্রিত্ব গেল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ নয়! মন্ত্রিসভায় নিজের ছেলের জন্য ‘হেভিওয়েট’ পদের দাবি সিদ্দারামাইয়ার

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কংগ্রেসের অন্দরে ফের অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠলেন সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah)। দিল্লি সফরে গিয়ে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বের সামনে তিনি যেভাবে নিজের প্রভাব ও শর্ত তুলে ধরলেন, তাতে স্পষ্ট—রাজ্য রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।

মন্ত্রিসভায় ছেলের জন্য বড় ‘চাহত’:
শুক্রবার দিল্লি গিয়ে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিদ্দারামাইয়া। দলীয় সূত্রে খবর, সেই বৈঠকেই তিনি নতুন ডি কে শিবকুমার সরকারের মন্ত্রিসভার খসড়া নিয়ে নিজের শর্ত দিয়েছেন। সিদ্দারামাইয়া চান, তাঁর ছেলে যতীন্দ্র সিদ্দারামাইয়া যেন নতুন মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো দপ্তরের দায়িত্ব পান। বিশেষ করে ‘চিকিৎসা শিক্ষা’ অথবা ‘অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ’ দপ্তরের দিকেই তাঁর নজর। এমনকি জলসম্পদ বা শিল্প দপ্তরের মতো ভারী দপ্তরের দাবিও তিনি পেশ করেছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জলসম্পদ দপ্তরটি এতদিন ডি কে শিবকুমারের নিয়ন্ত্রণে ছিল, সেখানে সিদ্দারামাইয়ার এই দাবি এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন এই জেদ?
পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিশ্চিত করতেই এই ছক কষেছেন সিদ্দারামাইয়া। তিনি নিজেকে কর্ণাটকের অন্যতম শক্তিশালী অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অতীতে জাতিগত সমীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ তাঁর আমলেই শুরু হয়েছিল। তাই অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিজের পরিবারের হাতে রেখে সেই ভোটের ব্যাঙ্কে আধিপত্য বজায় রাখতে চান তিনি।

হাইকম্যান্ডের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান:
জাতীয় রাজনীতিতে যাওয়ার প্রস্তাব কংগ্রেস হাইকমান্ড সিদ্দারামাইয়ার সামনে রাখলেও, তিনি তা সাফ ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট কথা, “আমি সক্রিয় রাজনীতিতেই থাকব, কর্ণাটক ছাড়ার কোনো ইচ্ছে নেই।” তাঁর এই অনড় অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে, রাজ্য কংগ্রেসের অন্দরে এখনও তিনি ‘পাওয়ার সেন্টার’ হিসেবে কাজ করছেন। কর্ণাটকের বহু প্রভাবশালী নেতা এখনও যে কোনো সিদ্ধান্তের আগে সিদ্দারামাইয়ার সঙ্গে আলোচনা করাটা জরুরি বলে মনে করেন।

বিক্ষোভে উত্তাল কর্ণাটক:
সিদ্দারামাইয়ার এই পদত্যাগের প্রতিবাদে রাজ্যের নানা প্রান্তে সরব হয়েছেন তাঁর সমর্থকরা। সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষ মনে করছেন, হাইকম্যান্ডের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের সবচেয়ে বড় ওবিসি নেতাকে কোণঠাসা করা হচ্ছে।

এখন দেখার বিষয়, ডি কে শিবকুমারের নতুন মন্ত্রিসভায় সিদ্দারামাইয়ার দাবি কতটা মেনে নেয় হাইকম্যান্ড। আর তাতেই নির্ধারিত হবে কর্ণাটক কংগ্রেসের নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য।