বিজেপি জয়ী হতেই ‘দলবদল’-এর হিড়িক! টিএমসিপি থেকে এবিভিপি—নাম বদলে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা?

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বদলানো সমীকরণে নতুন বিপাকে বঙ্গ বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি। একদিকে যেমন দলে দলে তৃণমূল কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তেমনই অন্যদিকে সংঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি (ABVP) ও শ্রমিক সংগঠন বিএমএস (BMS)-এ ‘অনুপ্রবেশ’-এর অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের প্রাক্তন কর্মীদের বিরুদ্ধে।

টিএমসিপি-র নাম বদলে এবিভিপি!
নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খবর আসতে শুরু করে যে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) অনেক ইউনিট রাতারাতি নিজেদের এবিভিপি-র পতাকাতলে নিয়ে এসেছে। শুধু নাম বদল নয়, সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলোর নামও বদলে ফেলা হয়েছে। এবিভিপি-র রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য জানান, এই চক্রটি পড়ুয়াদের বিভ্রান্ত করছে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। ইতোমধ্যে রাজ্যের ১৭টি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ছাত্র সংগঠনটি। এমনকি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ইস্যুতে ভুয়ো লেটারহেড ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে এই ছদ্মবেশী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে।

বিএমএস-এর নাম ভাঙিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা
সরাসরি বিজেপির দরজা বন্ধ থাকায়, এখন অনেকেই বিএমএস-এর নাম ব্যবহার করে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনগুলোর দখল নিতে চাইছে। বিএমএস-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “যারা অতীতে দুর্নীতি ও অপসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শের কোনো মিল নেই। আমরা স্বচ্ছ সংগঠন তৈরিতে বদ্ধপরিকর।”

পোস্ট-পোল বিজেপির দাপট?
নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের পর হঠাৎ দলবদল করা কাউকে বিজেপিতে জায়গা দেওয়া হবে না। তবুও, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় ‘পোস্ট-পোল’ বা ফলাফল পরবর্তী এই দলবদলের প্রবণতা আটকানো যাচ্ছে না। গত ৫ মে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় যখন নাম জড়ায়, তখন এবিভিপি দ্রুত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগ নেই।

সতর্ক বার্তা
বিশ্লেষকদের মতে, মূলত নিজেদের অতীত রাজনৈতিক পরিচয় মুছে ফেলতেই এই ‘ছদ্মবেশ’ ধারণের কৌশল নিচ্ছে তৃণমূলের প্রাক্তনীরা। তবে সংঘ পরিবার এখন সতর্ক। নতুন করে সদস্যপদ দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মাবলী এবং নজরদারি চালু করা হয়েছে। সংগঠনের প্রকৃত কর্মীদের আহ্বান জানানো হয়েছে, যেকোনো রাজনৈতিক প্রয়োজনে যেন সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

এখন দেখার বিষয়, এই ‘ছদ্মবেশী’দের রুখতে সংঘ পরিবার শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়।