‘কারা কারপুল করে এসেছেন?’ মোদী প্রশ্ন করতেই ক্যাবিনেট বৈঠকে মন্ত্রীদের মুখে কুলুপ! ফাঁস হলো অন্দরের খবর!

“আমরা যখন একই জায়গা থেকে রওনা হয়ে একই গন্তব্যে আসছি, তখন আমাদের কি কারপুলিং করা উচিত নয়?”— বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) হাই-প্রোফাইল বৈঠকে নিজের মন্ত্রীদের দিকে ঠিক এই প্রশ্নটাই ছুঁড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর প্রধানমন্ত্রীর এই আচমকা প্রশ্নে এক মুহূর্তের জন্য যেন থমকে গেল গোটা বৈঠক কক্ষ!

পশ্চিম এশিয়া তথা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা এবং এর জেরে তৈরি হওয়া বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষকে বারংবার জ্বালানি সাশ্রয় এবং ‘কারপুলিং’ (গাড়ি ভাগাভাগি করে যাতায়াত) করার পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু খোদ সরকারের মন্ত্রীরাই কি সেই নিয়ম মানছেন? বুধবারের বৈঠক কিন্তু অন্য কথাই বলছে।

বৈঠকের অন্দরে ঠিক কী ঘটেছিল?
সূত্রের খবর, বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠকে একাধিক মন্ত্রী যখন আলাদা আলাদা বিলাসবহুল গাড়ি চড়ে এসে হাজির হন, তখনই বিষয়টি নজর কাড়ে প্রধানমন্ত্রীর। বৈঠক শুরু হতেই পেট্রোল ও ডিজেল সাশ্রয়ের প্রসঙ্গ তোলেন মোদী। তিনি স্পষ্ট জানান, মন্ত্রীদের উচিত যা তাঁরা মুখে বলছেন, তা নিজেরাও করে দেখানো। অর্থাৎ ‘প্র্যাকটিস হোয়াট ইউ প্রিচ’।

এর পরেই মোদী আচমকা প্রশ্ন করেন, “আজকের বৈঠকে আপনারা কারা কারা কারপুল বা গাড়ি ভাগাভাগি করে এসেছেন?”

প্রধানমন্ত্রীর এই সোজাসাপ্টা প্রশ্নে কার্যত কোনো জবাব ছিল না মন্ত্রীদের কাছে। উপস্থিত সকলেই মাথা নেড়ে ‘না’ বলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার প্রভাব দেখা গেছে সেদিন সন্ধ্যাতেই। জানা গেছে, সন্ধ্যার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বেশ কয়েকজন প্রতিমন্ত্রী আলাদা গাড়ি না নিয়ে একই গাড়িতে চড়ে রওনা দেন।

পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তাঁরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর ছেড়ে সরাসরি মাঠে নামেন এবং জনগণের সাথে সংযোগ বাড়ান। সরকারের নীতি নির্ধারণে আমজনতার মতামত যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা মন্ত্রীদের মনে করিয়ে দেন তিনি।

তীব্র দাবদাহে মোদীর বিশেষ পরামর্শ
দেশের একটা বড় অংশে এই মুহূর্তে রেকর্ড গরম ও প্রখর রোদ সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত করে তুলেছে। এই তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁরা যেন নিজ নিজ এলাকার মানুষকে সচেতন করেন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেশবাসীকে যথাসম্ভব রোদ এড়িয়ে চলার এবং প্রচুর পরিমাণে জল পানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

‘আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনবেন না’, আশ্বস্ত করলেন রাজনাথ
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার এক কাল্পনিক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পেট্রোল, ডিজেল বা এলপিজি সিলিন্ডার মজুত না করার জন্য দেশবাসীর কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছে কেন্দ্র।

বুধবার পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য গঠিত ‘মন্ত্রীদের অনানুষ্ঠানিক গোষ্ঠী’ (IGoM)-র একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠক শেষে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন:

“দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত।”

নজরে খাদ্যপণ্যের দামও
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব যেন দেশের বাজারে না পড়ে। বিশেষ করে কৃষকদের সার এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় কৃষি উপকরণের সরবরাহ যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে, যাতে খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে রাজনাথ সিং ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাসায়নিক ও সার মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি, রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, জ্বালানি মন্ত্রী মনোহর লাল এবং বন্দর ও নৌপরিবহন মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল।