জ্যোতি মৌর্য কাণ্ডের ছায়া বিহারে! স্ত্রীকে শিক্ষিকা বানাতে জমি বিক্রি করেছিলেন স্বামী, বিনিময়ে পেলেন বিশ্বাসঘাতকতা?

বিহারে আবারও সামনে এল ‘জ্যোতি মৌর্য’ ধাঁচের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিজের স্ত্রীকে বিপিএসসি (BPSC) শিক্ষিকা পদে প্রতিষ্ঠিত করতে কঠোর পরিশ্রম ও পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করেছিলেন স্বামী আমান কুমার। অভিযোগ, স্ত্রী গুঞ্জন কুমারী শিক্ষিকা হওয়ার পরই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাকে প্রেমিকের সঙ্গে হাতে-নাতে ধরে ফেলেন স্বামী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বিহারের বৈশালী ও সুপাউল জেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শিক্ষিকা বানানোর লড়াই
আমান কুমার (৪৬) ও গুঞ্জন কুমারীর (৪০) বিবাহিত জীবন ১৩ বছরের। ২০১৩ সালে বিয়ের সময় গুঞ্জন কেবল ইন্টারমিডিয়েট পাশ ছিলেন। আমান পেশায় আলোকচিত্রী (ফটোগ্রাফার) হলেও, স্ত্রীর স্বপ্ন পূরণে নিজের পৈতৃক জমি বিক্রি করে দেন এবং দিনরাত খেটে তার স্নাতক ও বি.এড. পড়া সম্পন্ন করান। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গুঞ্জন বিপিএসসি টিআরই-২ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন।

কীভাবে ফাঁস হলো ঘটনা?
অভিযোগ, সুপাউলের একটি স্কুলে পোস্টিং পাওয়ার পর গুঞ্জন তার পুরোনো কলেজ বন্ধু প্রকাশের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। গত ২৫ মে, ২০২৬ তারিখে হাজিপুরের লিচ্ছবি নগরের একটি ঘরে স্বামী আমান তাকে ওই ব্যক্তির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলেন। এমনকি তাঁদের ১০ বছর বয়সী ছেলেও মায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছে। শিশুটির বয়ান অনুযায়ী, মা তাকে নিচে পাঠিয়ে উপরে পরকীয়া করতেন এবং তাকে ওই ব্যক্তিকে ‘চাচা’ বলে পরিচয় দিতে বাধ্য করতেন। সে আর মায়ের কাছে থাকতে চায় না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

আইনি জটিলতা ও স্বামীর অধিকার
স্বামী আমান কুমার আইনি পথে এর প্রতিকারের চেষ্টা করছেন। আইনের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতিতে স্বামীর সামনে রয়েছে বেশ কিছু আইনি পথ:

বিবাহবিচ্ছেদ: হিন্দু বিবাহ আইনের ১৩(১)(ia) ধারা অনুযায়ী এটি মানসিক নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য হবে।

সন্তানের হেফাজত: ১৮৯০ সালের অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন অনুযায়ী, শিশুর নিরাপত্তা ও নৈতিক বিকাশের কথা ভেবে আদালত পিতার হাতে হেফাজত তুলে দিতে পারে।

ভরণপোষণ: ভারতীয় আইনের ১২৫(৪) ধারা অনুযায়ী, ব্যভিচারে লিপ্ত থাকলে স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকার হারাতে পারেন।

ডিজিটাল প্রমাণ: এই মামলায় ভিডিও ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়েছে, যা আইনিভাবে যাচাই করতে ‘ধারা ৬৫বি’ (নতুন সাক্ষ্য বিধি) অনুযায়ী সনদপত্র বাধ্যতামূলক।

বিতর্কের সময়রেখা

২০১৩-২০১৬: বিয়ে এবং সন্তানের জন্ম।

২০২২: স্ত্রীর পড়াশোনার জন্য জমি বিক্রি করে আমানের বিনিয়োগ।

ডিসেম্বর ২০২৩: গুঞ্জনের শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ।

২০২৪-২৬: সম্পর্কে অবনতি এবং ২৫ মে, ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত বিবাদ।

বর্তমানে মামলাটি আদালতের বিচারাধীন। অভিযুক্ত স্ত্রী এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি। দাম্পত্য সম্পর্কের এই তিক্ত পরিণতি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।