ইনস্টাগ্রামে চ্যাট নিয়ে বচসা, স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন! সুরাত কাণ্ডের জেরে দিল্লি থেকে ধৃত স্বামী

সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য এক মহিলার সঙ্গে কথোপকথন—এই সামান্য বিবাদই শেষ পর্যন্ত কেড়ে নিল এক তরুণীর প্রাণ। গুজরাটের সুরাটের পালসানায় ঘটেছে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী শিবম রণজিৎ সিং ঠাকুরকে দিল্লির পুরনো রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করেছে সুরাট গ্রামীণ পুলিশ।
কী ঘটেছিল সেই দিন?
ঘটনাটি ঘটেছে সুরাটের বাগুমরা গ্রামের মহাদেব ভিলা অ্যাপার্টমেন্টে। উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরের বাসিন্দা শিবম ও মেভিশ খাতুন (২২) তিন বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। বিয়ের আগে দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে। গত তিন মাস ধরে তারা ওই অ্যাপার্টমেন্টের ৫০৬ নম্বর ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। গত ১৭ মে ওই ফ্ল্যাট থেকেই মেভিশের রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে শ্বাসরোধ করে খুনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপরই তদন্তে নামে পালসানা পুলিশ।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার
খুনের ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী শিবম পলাতক ছিল। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে নিশ্চিত হয় যে, শিবম দিল্লিতে গা ঢাকা দিয়েছে। এরপর সুরাট গ্রামীণ পুলিশের বিশেষ অপরাধ শাখা ও পালসানা পুলিশের একটি যৌথ দল দিল্লিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের জেরায় যা স্বীকার করল অভিযুক্ত
পুলিশি জেরায় নিজের অপরাধ কবুল করেছে শিবম। সে জানিয়েছে:
বিয়ের পরও শিবম ইনস্টাগ্রামে অন্য এক মহিলার সঙ্গে নিয়মিত চ্যাট করত।
এই বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হতো।
ঘটনার দিন ফের এই নিয়ে তীব্র বাদানুবাদ হয়।
ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাগের মাথায় শিবম মেভিশকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
বর্তমানে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একটি ফেসবুক চ্যাট বা সামান্য বিবাদ যে এভাবে একটি পরিবারের সমাপ্তি ঘটাতে পারে, তা সুরাটের এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হলো।