‘দলের আর ভবিষ্যৎ নেই!’ তৃণমূলের অন্দরে বিস্ফোরক সুখেন্দুশেখর রায়, নেত্রীর ‘সপার্ষদ’ বেষ্টনী নিয়ে তোপ

বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত বিদ্রোহের আগুন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শান্তনু সেনের পর এবার দলের বিরুদ্ধে খোদ মুখ খুললেন প্রবীণ নেতা ও রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁর মন্তব্যে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হলো ঘোর অনিশ্চয়তা।

দলের ‘ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক’ নীতি ও ক্ষোভ:
সুখেন্দুশেখর রায় এদিন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কার্যপদ্ধতি নিয়ে রীতিমতো তোপ দাগেন। তাঁর অভিযোগ, দলের অন্দরে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। নির্দেশ আসে ওপরতলা থেকে, তা মেনে নিতে হয়। নেত্রীর চারপাশে থাকা ‘সপার্ষদ’ বেষ্টনীর কারণে সাধারণ কর্মীদের তো দূরের কথা, দলের শীর্ষ নেতাদেরও নেত্রীর কাছে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল বলে দাবি তাঁর। মালদহকে পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়ে তাঁর বাবার অবদানের কথা প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা কোনোদিন স্বীকার করেননি—এ নিয়েও ক্ষোভ গোপন করেননি তিনি।

দুই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু (Power Center):
তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে যে টানাপড়েন, তা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সুখেন্দুশেখর। তিনি বলেন, “দুটো পাওয়ার সেন্টার কোনোদিন কোনো দলে থাকা উচিত নয়। কংগ্রেসে একসময় ছিল, যার জন্য দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যে তৃণমূলের অন্দরের দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও নেতৃত্ব সংকট আবারও স্পষ্টভাবে উঠে এল।

‘ভবিষ্যৎ নেই’ তৃণমূলের:
দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত হতাশাসূচক মন্তব্য করে প্রবীণ এই নেতা বলেন, “কোনো ভবিষ্যৎ নেই এই দলের। ২০১১ সালে মানুষ যেভাবে সিপিএমকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, এবার মানুষ সেই একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৫ বছর অনেক দেখা হয়েছে, মানুষ এখন বলছে—এবার যাও।” আরজি কর কাণ্ডকে দলের জন্য ‘লাস্ট ওয়ার্নিং’ বা শেষ সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

কেন এই বিদ্রোহ?
দলের অন্দরের অরূপ-সুশান্তদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁদের কথা শোনার মতো কোনো পরিবেশ দলে ছিল না। তৃণমূলের এই ‘ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক’ অর্থাৎ কেবল নির্দেশ আদান-প্রদান আর অন্ধ আনুগত্যের রাজনীতিই যে দলের এই ভাঙনের মূল কারণ, সুখেন্দুশেখরের কথায় তা পরিষ্কার।

তৃণমূলের বর্ষীয়ান এই নেতার এমন মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক সময়ের এই হেভিওয়েট নেতার মুখ থেকে দলের সমালোচনা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।