ইউজিসি-নেট আবেদন ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা! কারিগরি ত্রুটির জেরে বিপাকে দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী

ভারতীয় উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ‘ইউজিসি-নেট’ (UGC-NET) জুন ২০২৬-এর আবেদন প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এনটিএ (NTA)-র পোর্টালের লাগাতার কারিগরি ত্রুটি ও ফর্ম ফিলাপের জটিল প্রক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ দেশের উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা। সময়সীমা বাড়ানো সত্ত্বেও বহু প্রার্থী আবেদনপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ।
পরীক্ষার্থীদের মূল সমস্যাগুলো কী?
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউজিসি-নেট আবেদন প্রক্রিয়ায় যে সমস্যাগুলি প্রকট হয়ে উঠেছে তা হলো:
কারিগরি ত্রুটি: পোর্টালে বারবার যান্ত্রিক গোলযোগের ফলে শেষ মুহূর্তে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফর্ম জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
ডিজিলকার (Digilocker) ও আধার সমস্যা: ফর্ম ফিলাপের জন্য বাধ্যতামূলক এই পদ্ধতিতে চূড়ান্ত ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রার্থীরা। আধারে ব্যবহৃত পুরনো ছবির সঙ্গে বর্তমান চেহারার মিল না থাকায় সিস্টেম আবেদন গ্রহণ করছে না। অনেক প্রার্থীকে বাধ্য হয়ে চুল-দাড়ি পর্যন্ত ছাঁটতে হচ্ছে, তবুও সমস্যার সমাধান মিলছে না।
ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: ওড়িশার কালাহান্ডির মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেখানে পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অ্যাক্সেস না থাকায় ডিজিলকার ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জটিল প্রক্রিয়া: আবেদন প্রক্রিয়াটি এতটাই জটিল যে, ডিজিটাল মাধ্যমে দক্ষ না হলে অনেকের পক্ষেই তা সম্পন্ন করা দুঃসাধ্য।
পরীক্ষার্থীদের দাবি:
প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কালাহান্ডির স্নাতকোত্তর স্তরের পরীক্ষার্থী—সকলেই ইউজিসি ও এনটিএ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, মানবিক কারণে পোর্টালটি পুনরায় খুলে দেওয়া হোক অথবা আবেদনের সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়ানো হোক। একজন পরীক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি টানা তিন দিন চেষ্টা করেও ফর্ম পূরণ শেষ করতে পারেননি।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা:
পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এবং এই পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসনে এনটিএ-র পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। আগামী ২২ জুন থেকে ৩০ জুনের মধ্যে কম্পিউটার ভিত্তিক (CBT) মোডে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও গবেষণার সুযোগ সংকটের মুখে পড়েছে।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, ইউজিসি ও এনটিএ কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে একটি বড় অংশের মেধাবী শিক্ষার্থী এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।