পুলিশের মদতে দেহ ব্যবসা! ক্ষোভে ফেটে পড়ে অবৈধ ঠেক গুঁড়িয়ে দিলেন শান্তিপুরের মহিলারা

দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল নদীয়ার শান্তিপুর থানার কন্দখোলা বাইপাসে। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে অবশেষে এলাকার মহিলারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে ভেঙে দিলেন জাতীয় সড়কের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ দেহ ব্যবসা ও মদ্যপানের আসরের ঠেক। বুধবার রাতের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
অভিযোগ, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে পেট্রল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে ঝুপড়ি দোকান তৈরি করে রমরমিয়ে চলছিল বেআইনি দেহ ব্যবসা ও মদ্যপানের আসর। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘকাল ধরে তৃণমূল সরকারের আশ্রয়ে এই অনৈতিক কাজ চলত। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় প্রশাসনের দিকেও। বিক্ষোভকারী মহিলাদের অভিযোগ, পুলিশ নিয়মিত মাসোহারা পেত, তাই বারবার জানিয়েও কোনো ফল মেলেনি। উল্টে ‘পুলিশকে টাকা দিয়ে ব্যবসা করি’—এমন দম্ভোক্তিও শুনতে হতো বলে দাবি এলাকাবাসীর।
মহিলাদের ক্ষোভ:
বিক্ষোভকারী শিখা দাস বলেন, “এই এলাকা এখন ‘রেড এরিয়া’ নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছিল। গ্রামের পাশেই এমন নোংরা পরিবেশে আমাদের পুরুষ ও যুবকদের চরিত্র নষ্ট হচ্ছিল। আমরা নিরুপায় হয়েই আজ ঠেকগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছি।”
প্রশাসনের ভূমিকা:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তাঁদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভ ওঠে। রানাঘাট পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার আশিস মৈজ্য জানিয়েছেন, ঘটনার কথা তিনি শুনেছেন। তবে গ্রামবাসীরা লিখিত কোনো অভিযোগ জানাননি। পুলিশ সুপার আশ্বাস দিয়েছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার বদলের পর স্থানীয়দের এই সক্রিয়তা ও সাহসিকতা এখন শান্তিপুর তথা নদীয়া জেলায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনিক কড়া পদক্ষেপের অপেক্ষায় এখন স্থানীয় বাসিন্দারা।