“অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ১২ পাতার ফর্ম!”-জটিলতার অভিযোগে মুখ খুললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ

নতুন রাজ্য সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। মাসে ৩০০০ টাকা পাওয়ার এই প্রকল্পের জন্য যে আবেদনপত্র বা ফর্ম সামনে এসেছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, ১২ পাতার এই দীর্ঘ ও জটিল ফর্মের মাধ্যমে সরকার আসলে সাধারণ মানুষকে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে।

কী রয়েছে ফর্মে? ফর্মটিতে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড এবং ব্যাঙ্কের তথ্যের মতো একাধিক নথির পাশাপাশি জমি-বাড়ি, সম্পত্তির পরিমাণ এবং বার্ষিক আয়ের বিশদ বিবরণ চাওয়া হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এই জটিলতা সাধারণ মহিলারা পূরণ করতে পারবেন না।

কী বললেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ? বিরোধীদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা এবং সঠিক উপভোক্তা নির্বাচনের জন্য এই তথ্য নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এখন প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশিরা যাতে ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।” তিনি আরও বলেন, “জিএসটি যেমন শুরুতে কঠিন মনে হলেও পরবর্তীতে মানুষের জন্য সহজ ও লাভজনক হয়েছে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মও সময়ের সাথে সাথে সরলীকরণ করা হবে।” তবে এই সরলীকরণ প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, তা নিয়ে সরাসরি কোনো সময়সীমার কথা তিনি জানাননি।

আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: ইতিমধ্যেই এই ফর্ম পূরণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকার সরাসরি আবেদনকারীদের সাহায্য করার জন্য বড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে:

  • জনকল্যাণ শিবির: আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে রাজ্যজুড়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে, যেখানে সরাসরি ফর্ম জমা দেওয়া যাবে।

  • বাড়ি বাড়ি পরিষেবা: প্রতিটি পঞ্চায়েত ও পৌরসভা এলাকা থেকে সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন এবং পূরণ করা ফর্ম সংগ্রহ করবেন।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ঘোষণা করেছেন যে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পেতে এই ফর্ম পূরণ করা বাধ্যতামূলক। প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন ও প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্যই এই কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া বজায় রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।