মরুভূমির জাহাজ অসমের গ্রামে! ইদুজ্জোহার আগে উট উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক শোরগোল

ইদুজ্জোহার আবহে অসমের ধেমাজি জেলার সিসিবোরগাঁও এলাকায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। রাজস্থান থেকে সুদূর পথ পেরিয়ে অসমের একটি গ্রামে এসে হাজির হলো মরুভূমির জাহাজ—উট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে যেমন কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই আইনি জটিলতা এড়াতে আসরে নেমেছে প্রশাসন।
কী ঘটেছে?
স্থানীয় সূত্রের খবর, সিসিবোরগাঁওয়ের গেলুয়া গ্রামে ইদের কুরবানির উদ্দেশ্যে রাজস্থান থেকে এই উটটিকে আনা হয়েছিল। কিন্তু সবুজ গ্রামবাংলায় আচমকা উট দেখে ভিড় জমান স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আগেই সিসিবোরগাঁও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তড়িঘড়ি উটটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
প্রশাসনের কড়া নজরদারি:
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন ইদের কুরবানি ও পশুবলি নিয়ে অসমে চলছে বিশেষ সতর্কতা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে রাজ্যের মুসলিম সংগঠন ও ইদগাহ কমিটিগুলোর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের ৮০০-র বেশি ইদগাহ কমিটি স্বেচ্ছায় ইদের দিন গো-হত্যা থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিকা:
সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, কুরবানি দেওয়ার সময় যেন কোনোভাবেই হিন্দুপ্রধান এলাকা বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় তা করা না হয়। আইন অমান্য করলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, অসম সরকারের ‘ক্যাটল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, মন্দির বা নামঘরের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে গো-হত্যা ও গোমাংস ভক্ষণ আইনত নিষিদ্ধ।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে অসমের বহু মুসলিম সংগঠন ‘শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সিদ্ধান্ত’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে এর মধ্যেই ধেমাজিতে উট নিয়ে আসার ঘটনাটি প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। প্রশাসন এখন উটটিকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।