৪৫ বছরে প্রথম! গরমের মরশুমেও এবার চলবে বিলাসবহুল ‘মহারাজাস এক্সপ্রেস’, জানুন বিস্তারিত

ভারত ভ্রমণ তো অনেক করেছেন, কিন্তু রাজকীয় আভিজাত্যে মোড়া রেলভ্রমণের কথা ভেবেছেন কি? রাজধানী বা বন্দে ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে বিলাসবহুল ভ্রমণের সংজ্ঞা বদলে দিয়েছে ‘মহারাজাস এক্সপ্রেস’ (Maharajas Express)। ট্রেনের ভেতর পা রাখা মানেই যেন কোনো রূপকথার রাজপ্রাসাদে প্রবেশ করা।

কী আছে এই বিলাসবহুল ট্রেনে?
ট্রেনের প্রতিটি কামরা যেন রাজকীয় শিল্পকলা। এর মধ্যে সবথেকে আকর্ষণীয় হলো ‘প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট’। ৪৪৮ স্কোয়ার ফিটের এই বিশাল কামরায় দুটি বেডরুম, লিভিং রুম, আধুনিক বাথরুম, মিনিবার এবং ২৪ ঘণ্টা ব্যক্তিগত বাটলারের পরিষেবা মেলে। যাত্রীদের আরাম ও বিলাসিতার কোনো খামতি রাখা হয়নি এখানে।

ভাড়ার বহর ও প্যাকেজ:
ট্রেনের প্যাকেজ ও গন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার তারতম্য হয়:

ডিলাক্স কেবিন: ৪ দিনের ‘ট্রেজার্স অফ ইন্ডিয়া’ প্যাকেজের খরচ শুরু হয় প্রায় ৪ লক্ষ টাকা থেকে।

৭ দিনের সফর: জনপ্রতি খরচ হতে পারে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা।

প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট: এখানে জনপ্রতি খরচ প্রায় ২০ থেকে ২১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
টিকিটের এই মূল্যের মধ্যেই থাকে খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে প্রবেশের টিকিট ও গাইড পরিষেবা।

রাজকীয় আভিজাত্যে ভারত দর্শন:
মহারাজাস এক্সপ্রেস মূলত জয়পুর, আগ্রা, বারাণসী, উদয়পুর, রণথম্বোর ও খাজুরাহোর মতো ঐতিহ্যবাহী শহরগুলোতে পর্যটকদের নিয়ে যায়। ট্রেনের ‘রঙমহল’ ও ‘ময়ূরমহল’ নামক দুটি রেস্তরাঁয় পরিবেশন করা হয় দেশি-বিদেশি সব সেরা রান্না।

গরমের মরশুমে যাত্রা:
এতদিন এই ট্রেনটি কেবল সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে চলত। তবে ৪৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম, গরমের মরশুমেও ট্রেনটি চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজস্থানের তীব্র গরম উপেক্ষা করেও এই বিরল অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে ভিড় জমাবেন ভ্রমণপিপাসুরা।

কেন এটি সেরা?
ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে বিলাসিতার এমন মেলবন্ধন আর কোনো ট্রেনে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। আকাশছোঁয়া দাম হলেও, যারা আভিজাত্য পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ‘মহারাজাস এক্সপ্রেস’ ভ্রমণ এক আজীবন মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা।