‘গ্রিন সিটি’ দুর্নীতির পর্দাফাঁস! আরামবাগে গ্রেফতার ৩, গা ঢাকা দিলেন প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দী

সরকার বদল হতেই রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তৎপরতা তুঙ্গে। এবার ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক তছরূপের অভিযোগে হুগলির আরামবাগ পুরসভায় বড়সড় ধরপাকড় করল পুলিশ। সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে আরামবাগ পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক স্বপন নন্দীর। পুলিশের জালে তাঁর ঘনিষ্ঠরা ধরা পড়লেও, ঘটনার পর থেকেই প্রাক্তন চেয়ারম্যান পলাতক।

কী এই দুর্নীতি?
২০২৩ সালে প্রথমবার এই অনিয়মের খবর প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, পূর্ববর্তী তৃণমূল বোর্ডের আমলে গ্রিন সিটি প্রকল্পের আওতায় আরামবাগের ১২টি স্কুলে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য স্কুলপিছু প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা করে বিল তোলা হয়েছিল। বর্তমান পুরপ্রধান সমীর ভান্ডারী দায়িত্ব নেওয়ার পর অডিটে ধরা পড়ে যে, বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি, অথচ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে পুরো টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

গ্রেফতার ৩, রাঘব বোয়ালের খোঁজে তল্লাশি:
বর্তমান পুরপ্রধানের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আরামবাগ থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হলেন:

কৌস্তভ মুখোপাধ্যায়: পুরসভার লাইট বিভাগের অস্থায়ী কর্মী।

মানস কুন্ডু: পুরসভার অস্থায়ী ইঞ্জিনিয়ার।

স্বর্ণাভ ঘোষ (টুম্বা): সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।

পুলিশ সূত্রে খবর, তৎকালীন পুরপ্রধান স্বপন নন্দীর মদতেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই এই ঠিকাদার সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। হুগলি রুরাল পুলিশের এএসপি এই গ্রেফতারির কথা নিশ্চিত করেছেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার বার্তা দিয়েছিলেন। পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকা সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আরামবাগের বিজেপি বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, “এরা তো চুনোপুঁটি, আসল রাঘব বোয়ালদের ধরতে হবে। অবিলম্বে প্রাক্তন পুরপ্রধান স্বপন নন্দীকে গ্রেফতার করতে হবে।”

গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বনাথ কারকও এর আগে এই দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন পুরমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় আরামবাগ পুরসভার অন্দরে এখন চরম শোরগোল।