অনীকের শেষ পোস্টে নিশানায় ছিল TMC-র ‘ভাইপো’, জেনেনিন কী লিখেছিলেন পরিচালক?

রূপালি পর্দার জগতের এক অনন্য নাম, আপসহীন পরিচালক অনীক দত্ত আর নেই। বুধবার দুপুরে হিন্দুস্তান পার্কের এক বহুতল আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউড থেকে রাজনৈতিক মহলে। ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর মতো কালজয়ী সিনেমা উপহার দেওয়া এই পরিচালক তাঁর সিনেমার মতোই বাস্তব জীবনেও ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টবক্তা।

রাজনৈতিক মতাদর্শ ও অনীক দত্ত: একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হওয়ার পাশাপাশি অনীক দত্ত ছিলেন বামমনস্ক রাজনীতির এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। ২০১২ সালে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ দিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও, তৃণমূল সরকারের নীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিশেষ করে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ এবং ‘অপরাজিত’ সিনেমা সরকারি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনে বাধা পাওয়ার পর, তিনি সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি পথে নেমে প্রতিবাদ করেছিলেন।

ফেসবুকের শেষ পোস্ট ও বিতর্ক: মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও তাঁর ফেসবুক পেজের পোস্টগুলি ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজ থেকে কল্যাণী নেতাজি সুভাষ সেনেটোরিয়াম ও টিবি হাসপাতালের দৈন্যদশা নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন তিনি, যেখানে ‘ভাইপোর দুর্নীতি’র সরাসরি উল্লেখ ছিল।

শুধু তাই নয়, গত ২৬-এর নির্বাচন ও ফলাফল পরবর্তী সময়েও সিপিআইএম ও বাম প্রার্থীদের হয়ে তিনি সোশাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন। মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। নির্বাচনের ফলাফলের দিন তাঁর লেখা— “ফলাফল যা-ই হোক, হৃদয় বামদিকেই থাকবে”—কথাটি আজও ভাইরাল।

ব্যক্তিগত লড়াই ও মানসিক পরিস্থিতি: গড়িয়াহাট থানা সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে গুরুতর মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন তিনি। নিয়মিত অ্যাংজাইটির ওষুধও নিতে হতো। গত এক বছর ধরে স্ত্রীর সাথে আলাদা থাকতেন পরিচালক। তবে বুধবার সকালেই তিনি স্ত্রী সন্ধি দত্তর হিন্দুস্তান পার্কের আবাসনে গিয়েছিলেন। এরপরই এই মর্মান্তিক অঘটন ঘটে।

তাঁর প্রয়াণের খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে ভিড় করেন সৃজন ভট্টাচার্য, মহম্মদ সেলিম, দীপ্সিতা ধরের মতো বাম নেতারা। তাঁর মৃত্যু কেবল টলিউডকে নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সচেতন এক বিশাল অংশের মানুষকে গভীর শূন্যতায় ফেলে দিল। তাঁর বহু আলোচিত প্রজেক্ট ‘অপরাজিত ২’ এখন চিরতরে অসমাপ্ত রয়ে গেল।