‘নেত্রীর জন্যই আজ দলের এই হাল!’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক তারক সিং

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর শোনা গেল মেয়র পারিষদ সদস্য তারক সিং-এর গলায়। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক তোপ দেগে তিনি কার্যত দলের অন্দরে ফাটল ধরিয়ে দিলেন।
কেন ক্ষুব্ধ তারক সিং?
ঠান্ডা ঘরের বৈঠক: তৃণমূল নেত্রীর ডাকা একাধিক বৈঠকে অনুপস্থিত থাকা নিয়ে তিনি সাফ জানিয়েছেন, কর্মী-সমর্থকরা যখন ঘরছাড়া ও আক্রান্ত, তখন কালীঘাটের ‘ঠান্ডা ঘরে’ বসে বৈঠক করার কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখেন না।
নেতৃত্বের উদাসীনতা: তারক সিং-এর অভিযোগ, দলের ৪২ জন সাংসদ সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ দেখাতে ব্যস্ত থাকলেও, আক্রান্ত কর্মী-সমর্থকদের সুরক্ষার জন্য কেউ এগিয়ে আসছেন না। ঘরছাড়া কর্মীদের তালিকা পুলিশের কাছে দেওয়ার ব্যাপারেও নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
মেয়র ও পুরসভার ভূমিকা: কলকাতা পুরসভায় হওয়া সাম্প্রতিক অধিবেশনটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, মেয়র পারিষদ সদস্যদের সাথে ন্যূনতম আলোচনা না করায় দল মানুষের কাছে হাস্যকর হয়ে উঠছে।
মমতা-অভিষেককে কাঠগড়ায়:
তৃণমূলের ভরাডুবির দায় সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও পরিকল্পনার ওপর চাপিয়েছেন তারক সিং। তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, অভিষেক যেভাবে নিজের মতো করে দলকে চালানোর চেষ্টা করেছেন, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সায় ছিল। ফলতার জাহাঙ্গির খান বা পুষ্পার মতো ব্যক্তিদের বাড়বাড়ন্তের নেপথ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘চোখ বন্ধ করে থাকা’র নীতিকেই দায়ী করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক জল্পনা:
তারক সিং-এর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর ইতিমধ্যেই আইপ্যাক এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যপদ্ধতি নিয়ে দলের একাংশ সরব হয়েছে। তারক সিং-এর এই প্রকাশ্য ক্ষোভ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত আপাতত নড়বড়ে।
প্রবীণ এই নেতা তথা তৃণমূলের প্রথম দিনের সৈনিকের এই বিদ্রোহ আসন্ন দিনগুলিতে দলের অন্দরে আরও বড় কোনো ভাঙনের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।