৭ মাসের পলাতক বিডিও-কে ধরলেন সাধারণ মানুষ, তবুও রাতারাতি জামিন! ক্ষুব্ধ নেটপাড়া

সাত মাস ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। নিউটাউনে এক সাধারণ নাগরিকের তৎপরতায় অবশেষে ধরা পড়লেন তিনি। কিন্তু এই গ্রেফতারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন পেয়ে ফের পগারপার অভিযুক্ত। এই ঘটনায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও আইন ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট:
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নিউটাউনের যাত্রাগাছির খাল থেকে উদ্ধার হয় স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার দেহ। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও প্রশান্ত বর্মণ আত্মসমর্পণ না করে পলাতক ছিলেন। পুলিশি তদন্ত সত্ত্বেও দীর্ঘ ৭ মাস তাঁর কোনো হদিস মেলেনি।

যেভাবে ধরা পড়লেন ‘সুপারহিরো’ সাধারণ মানুষ:
সোমবার রাতে নিউটাউনে এক পথচারীকে ধাক্কা মারার পর প্রশান্ত বর্মণের স্কুটার থামিয়ে তাঁকে হাতেনাতে ধরেন শাকিল আহমেদ নামক এক যুবক। মত্ত অবস্থায় থাকা ওই ব্যক্তির পরিচয় জানার পর তিনি পুলিশে খবর দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সাহসী কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ভাইরাল হয়। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পরেও বিড়ম্বনা পিছু ছাড়েনি।

কেন জামিন পেলেন অভিযুক্ত?
পুলিশ প্রশান্ত বর্মণকে গ্রেফতার করলেও, খুনের মামলায় নয়, তাঁকে অভিযুক্ত করা হয় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর দায়ে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ২৮১, ১২৫বি এবং মোটর ভেহিকল আইনের ১৮৪ ও ১৮৫ ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। আইন অনুযায়ী এই ধারাগুলি জামিনযোগ্য। মঙ্গলবার বারাসত আদালতে তোলা হলে প্রয়োজনীয় নথি বা কড়া ধারার প্রয়োগ না থাকায়, বিচারক মাত্র ১০০০ টাকার বন্ডে তাঁকে জামিন দিয়ে দেন।

কেন প্রশ্ন উঠছে?
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। ৭ মাস ধরে যে ব্যক্তি খুনের মামলায় ফেরার, তাঁকে গ্রেফতার করার পর কেন পুলিশি হেফাজতে নিয়ে খুনের মামলার তদন্তে তাঁকে জেরা করা হলো না? কেন শুধুমাত্র ছোট ছোট জামিনযোগ্য ধারায় এফআইআর করা হলো? এই প্রশ্নই এখন আমজনতার মুখে মুখে। জামিন পাওয়ার পর থেকেই পলাতক প্রাক্তন বিডিও-র বর্তমান অবস্থান নিয়ে ফের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।