পশ্চিমবঙ্গের নতুন CEO নীলাম মীনা! মনোজ আগরওয়ালের বদলিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) পদে বড়সড় রদবদল ঘটাল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। মনোজ কুমার আগরওয়ালের জায়গায় নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আইএএস আধিকারিক নীলাম মীনা। তবে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
রদবদলের নেপথ্যে রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রাক্তন সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালকে রাজ্যের মুখ্য সচিব হিসেবে উন্নীত করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন নীলাম মীনা। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তিনিই এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন।
তৃণমূলের তোপ এই নিয়োগের পরই তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই সিইও এবং বিজেপির মধ্যে গোপন আঁতাত ছিল। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, “গণনা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ও এজেন্টদের হেনস্থা করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করেছে।” সিইও-কে রাজ্যের মুখ্য সচিব পদে নিয়োগ করায় তৃণমূলের ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।
কংগ্রেসের সুর তৃণমূলের পাশাপাশি সুর চড়িয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীও। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধীর কটাক্ষ, “বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের এই ‘চোর বাজারে’ যে যত বড় চুরি করবে, সে তত বড় পুরস্কার পাবে।” সিইও-কে মুখ্য সচিব পদে নিয়োগের বিষয়টিকে ‘পুরস্কার’ হিসেবেই দেখছে বিরোধী শিবির।
প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৬টি আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি। এর আগে থেকেই ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূল ও কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিল। নতুন সিইও নিয়োগের মাধ্যমে এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।