‘দলের কেউ খোঁজ নেয় না, বৈঠকে যাওয়ার মানে হয় না!’ মমতার সভায় গরহাজির ক্ষুব্ধ তারক সিং

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে অস্বস্তি। এবার প্রকাশ্যে এল সেই ফাটল। মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিলেন না বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ তারক সিং। সরাসরি দলীয় নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি জানালেন, দলের অন্দরে তিনি এবং তাঁর অনুগামীরা যেভাবে ‘অত্যাচারিত’ হচ্ছেন, তাতে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কোনো অর্থ হয় না।

কী বললেন তারক সিং? কালীঘাটে যখন মেয়র পারিষদদের নিয়ে দলনেত্রীর বৈঠক চলছে, তখন তারক সিংকে দেখা গেল পুরভবনে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি তীব্র ক্ষোভের সুরে বলেন, “আমরা যখন অত্যাচারিত হচ্ছি, তখন দলের কেউ একটা ফোন করে খোঁজ নেয় না। তাহলে সেই দলের বৈঠকে যাওয়ার মানে কী? তাই আমি যাইনি।” তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দলের অভ্যন্তরেও তিনি যথাযথ সমর্থন পাচ্ছেন না।

ব্যর্থতার দায় ও হতাশা: তারক সিং দাবি করেছেন, তাঁর মেয়ের পার্টি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হলেও ফিরহাদ হাকিমের কাছে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি। উল্টে ফিরহাদ হাকিম তাঁকে জানিয়েছেন, “আমার নিজের অবস্থাই খারাপ।” এই মন্তব্যেই স্পষ্ট দলের ভেতরে মেয়র ও অন্যান্য নেতৃত্বের মধ্যকার সমন্বয়ের অভাব।

বর্ষীয়ান এই নেতা বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “রাজনীতিতে এখন শব্দদূষণ খুব বেড়েছে। আমি আমার নাতি-নাতনিদেরও বারণ করেছি রাজনীতি থেকে দূরে থাকতে।”

পুরসভার কাজ ও আত্মসম্মান: পুরসভার নিকাশি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এই নেতা আরও জানিয়েছেন, বর্ষার আগে যে ধরনের প্রস্তুতির বৈঠক প্রয়োজন, তা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমি কলকাতাবাসীকে জল জমার হাত থেকে রক্ষা করতে দায়বদ্ধ। আমি কোনো বদনাম নিয়ে যেতে চাই না।” সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে তিনি লড়াই করেছেন, জ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, নিজের বাড়িতে বোমা পড়ার পরেও মাথা নত করেননি। আত্মসম্মানের প্রশ্নে তিনি এবারও আপস করতে রাজি নন।

রাজনৈতিক তাৎপর্য: ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তারক সিংয়ের এই ‘বিদ্রোহ’ কেবল ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়। মেয়র এবং পুর কমিশনারের টানাপোড়েনের মাঝে তারক সিংয়ের মতো একজন পোড়খাওয়া নেতার এই বক্তব্য তৃণমূলের অন্দরে যে বড় ধরণের ভাঙন বা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।