এআই (AI) ব্যবহারে খরচ কমবে? বড় সংস্থাগুলির হিসেবে বড় ভুল! বাড়ছে নতুন আর্থিক চাপ

গত দুই বছর ধরে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)-কে দেখা হচ্ছিল উৎপাদনশীলতার এক নতুন জাদুমন্ত্র হিসেবে। কাস্টমার সাপোর্ট থেকে শুরু করে কোডিং কিংবা কনটেন্ট তৈরি— প্রায় সব ক্ষেত্রেই জয়জয়কার ছিল এআই-এর। তবে সেই স্বপ্নের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখতে শুরু করেছে বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো।
খরচ বনাম দক্ষতা: বহু সংস্থাই ভেবেছিল, এআই ব্যবহারের ফলে সময় ও শ্রম বাঁচবে, যা দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। এআই-এর ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সংস্থাগুলির ওপর নতুন এক ধরনের আর্থিক চাপের পাহাড় জমছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
-
কম্পিউটিং ও ক্লাউড খরচ: এআই মডেলগুলোকে নিয়মিত চালানোর জন্য বিশাল শক্তিশালী সার্ভার ও ক্লাউড অবকাঠামোর প্রয়োজন হয়, যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আকাশচুম্বী।
-
টোকেন ব্যবহারের মাশুল: বড় মডেলগুলোতে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ ডেটা ‘টোকেন’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার জন্য এআই প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হচ্ছে।
-
প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ: এআই মডেলগুলোর আপগ্রেড এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার খরচও কিন্তু কম নয়।
কর্পোরেট মহলে অস্বস্তি: টেক জায়ান্ট থেকে শুরু করে মাঝারি সারির সংস্থা— সবাই এখন তাদের ব্যালেন্স শিট নতুন করে খতিয়ে দেখছে। এআই ব্যবহারের মাধ্যমে যেটুকু বাড়তি দক্ষতা বা ‘আউটপুট’ পাওয়া যাচ্ছে, তার চেয়ে ‘ইনপুট কস্ট’ বা পরিচালনার খরচ অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে কিনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
ভবিষ্যৎ কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই যে বিপ্লব ঘটাচ্ছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্ধভাবে এআই ব্যবহারের চেয়ে এখন সংস্থাগুলোর প্রয়োজন ‘স্মার্ট এআই’ বা নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া। যেখানে প্রয়োজনীয়তা কম, সেখানে ব্যয়বহুল মডেলের বদলে সাশ্রয়ী বিকল্প বেছে নেওয়া এবং নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তির চমক নয়, বরং এটি একটি বড় আর্থিক বিনিয়োগ। সেই বিনিয়োগ থেকে সংস্থাগুলো কতটা মুনাফা ঘরে তুলতে পারবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে কর্পোরেট দুনিয়ায়।