তীব্র গরমে রেকর্ড ব্যবসা! এসি-কে টেক্কা দিয়ে এবার বাজারের রাজা আইসক্রিম ও কোল্ড ড্রিঙ্কস

মে মাসের দহন জ্বালায় জ্বলছে গোটা দেশ। কিন্তু এই দাবদাহই আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে দেশের ভোগ্যপণ্য ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের জন্য। তীব্র গরমের কারণে আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় এবং এসির চাহিদা এখন তুঙ্গে, যা ব্যবসায়িক সব পুরনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
অনলাইন ডেলিভারির রমরমা: এবারের গ্রীষ্মে গ্রাহকদের কেনাকাটার ধরণ এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। রোদে বাইরে বেরোনোর বদলে মানুষ এখন ‘কুইক কমার্স’ বা অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ঘরে বসে ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম পাওয়ার সুযোগ থাকায়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই পণ্যগুলোর বিক্রি গত ১০ দিনে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
কোম্পানিগুলোর লাভের খতিয়ান:
-
আইসক্রিম: জনপ্রিয় আইসক্রিম কোম্পানিগুলোর দাবি, আগের বছরের তুলনায় এবার বিক্রি প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে কোণ, স্টিক ও কাপ আইসক্রিমের চাহিদা সব থেকে বেশি। ফ্যামিলি প্যাকের পাশাপাশি ছোট আকারের আইসক্রিমগুলোর বিক্রি লাফিয়ে বেড়েছে।
-
এসি (AC): গত বছর আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এসি বিক্রি থমকে থাকলেও, এবার চিত্রটা একদম আলাদা। হায়ারের মতো কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, মে মাসে তাদের এসি বিক্রি ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। কাঁচামালের দাম বাড়া সত্ত্বেও গ্রাহকরা গরম থেকে বাঁচতে নতুন এসি কেনাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
-
ঠান্ডা পানীয়: পেপসিকোর মতো সংস্থার মতে, আবহাওয়া এমন থাকলে চলতি ত্রৈমাসিকে কোম্পানিগুলো তাদের ব্যবসায়িক ইতিহাসের সেরা মুনাফা অর্জন করবে।
কেন এই পরিবর্তন? চলতি বছরের শুরুতে অসময়ে বৃষ্টির কারণে ব্যবসায় কিছুটা মন্দা দেখা দিলেও, মে মাসের এই তীব্র তাপপ্রবাহ সেই ঘাটতি পুষিয়ে দিয়েছে। একদিকে যেমন গ্রাহকরা ঘরে বসে স্বস্তি পাচ্ছেন, অন্যদিকে কোম্পানিগুলো প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি লাভের মুখ দেখছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শহুরে জীবনে ‘ইনস্ট্যান্ট গ্র্যাটিফিকেশন’ বা দ্রুত পরিষেবা পাওয়ার প্রবণতাই এই গ্রীষ্মকালীন ব্যবসার এই বিশাল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।