জন্ম-শংসাপত্রে ভয়াবহ জালিয়াতি! জগদীশপুর হাসপাতালে হুলস্থূল, কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি রুদ্রনীলের

রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে জন্ম-শংসাপত্র (Birth Certificate) তৈরির নামে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ার জগদীশপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। অভিযোগ, হাসপাতালের নামাঙ্কিত প্যাড, নকল সিলমোহর এবং ভুয়ো চিকিৎসা নথি ব্যবহার করে সরকারি পোর্টালে তথ্য তুলে জালিয়াতি করা হচ্ছিল। যে সব শিশুর নামে শংসাপত্র তৈরি হয়েছে, প্রসূতি দপ্তরের খাতায় তাদের অস্তিত্বই নেই! এই ঘটনায় হাসপাতালের কিছু অস্থায়ী কর্মীর যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতাল চত্বরে তৃণমূল নেতাকে ঘিরে বিক্ষোভ: মঙ্গলবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। বালি-জগাছা পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তৃণমূল নেতা গৌরাঙ্গ সাহা সেখানে পৌঁছাতেই স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শেষপর্যন্ত তাঁকে হাসপাতাল চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিধায়কের হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনিক বৈঠক: পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান শিবপুরের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) ড. কিশলয় দত্তও।

বৈঠক শেষে কঠোর বার্তা দিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ অসুস্থ হতে দেওয়া যাবে না। আগের দুর্নীতির জঞ্জাল পরিষ্কার করতেই হবে। এই অনিয়ম রোগের মতো ছড়াচ্ছে, তাই এর জন্য ‘কড়া ওষুধ’ দরকার।”

কী পদক্ষেপ নিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর? হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ড. কিশলয় দত্ত জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সাফ জানান, “যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত, তারা কোনো সুরক্ষা পাবে না। আগামী ৩১ মে-র মধ্যে সমস্ত শংসাপত্র সিআরএস (CRS) পোর্টাল ও জন্ম-মৃত্যু তথ্য পোর্টালে যাচাই করা হবে। গরমিল পেলেই তা বাতিল করা হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।”

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর অবস্থান বড়সড় অস্বস্তিতে ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসনকে। এখন দেখার বিষয়, স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেয়।

সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনটি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের পাল্টা বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী আপডেটে যুক্ত করা হবে।