আপনার অজান্তেই বিক্রি হচ্ছে গোপন তথ্য? AI সংস্থাগুলোর কাণ্ডকারখানায় তোলপাড়!

ডিজিটাল যুগে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য—নাম, ফোন নম্বর বা ই-মেইল—এখন আর আপনার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই বললেই চলে। এতদিন বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার বিরুদ্ধে তথ্য বিক্রির অভিযোগ উঠলেও, এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরাও। একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য: আপনি যে AI মডেল ব্যবহার করছেন, তা আপনার অজান্তেই আপনার ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় কোনো সংস্থার কাছে পাচার করে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।

কেন এই চাঞ্চল্য?
‘ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টার’ (EPIC)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গুগল, মেটা এবং ওপেন এআই-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, অনেক সংস্থাই ব্যবহারকারীদের ডাটা শেয়ারিং বন্ধ করার অপশনটি অত্যন্ত জটিল করে রেখেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এই লিঙ্কের সঠিক অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াই কঠিন।

যেভাবে ডাটা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে:
১. জটিল প্রক্রিয়া: অনেক AI ভেন্ডর এমন সিস্টেম তৈরি করেছে যেখানে ডাটা শেয়ারিং বন্ধ করার আবেদন জানাতে হলে ব্যবহারকারীকে একাধিক ফর্ম পূরণ করতে হয়। এই ঝক্কি এড়াতে অধিকাংশ মানুষ সেটি আর করেন না।
২. লগইনের বাধ্যবাধকতা: মেটা, এক্স (টুইটার) বা টিন্ডারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য লগইন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীর কাছে একটি বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. প্রশিক্ষণের নামে নজরদারি: বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ AI সংস্থা ডেটিং অ্যাপ বা ডাটা ব্রোকারদের মতোই কাজ করছে। ব্যবহারকারীর অজান্তেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সেই ডাটা নিজেদের অ্যালগরিদম উন্নত করতে বা সরাসরি বিজ্ঞাপন সংস্থার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শুরু হচ্ছে অনাকাঙ্ক্ষিত ই-মেইল বা টেলিফোন মার্কেটিংয়ের দৌরাত্ম্য।

আশার আলো কোথায়?
তবে সবটাই অন্ধকার নয়। মাইক্রোসফটের সহায়তায় পরিচালিত ওপেন এআই তাদের ‘ChatGPT’-এর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার বা তা সংরক্ষণ না করার অপশন রেখেছে। অর্থাৎ, ব্যবহারকারী চাইলে তার ডাটা সুরক্ষার বিষয়টি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

সচেতন হওয়ার উপায়:
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কোনো অ্যাপ বা AI টুল ব্যবহারের আগে তার ‘প্রাইভেসি সেটিং’ ভালো করে দেখে নিন। যদি ডাটা শেয়ারিং বন্ধ করার কোনো অপশন থাকে, তবে তা খুঁজে বের করে দ্রুত ডিজেবল করে দিন। মনে রাখবেন, ইন্টারনেটে আপনার তথ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাথমিকভাবে আপনার নিজেরই।