ঠিকাদারের চরম অবহেলা? জয়সলমীরে সরকারি এলাকায় সারি সারি পচাগলা গরুর দেহ, ক্ষোভে ফুঁসছে শহর

রাজস্থানে বিভীষিকাময় দৃশ্য! মরুশহর জয়সলমীরের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ইয়ার্ডে মিলেছে ৫০০-রও বেশি গরুর পচাগলা দেহ। ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আর প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন এই দেহগুলি পড়ে থাকায় গোটা এলাকায় বিষাক্ত বাতাসের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি? স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী এই মৃতদেহগুলি যথাযথভাবে সমাধিস্থ বা প্রক্রিয়াজাত করার দায়িত্ব ছিল একটি ঠিকাদার সংস্থার ওপর। কিন্তু সেই সংস্থা দায়িত্ব পালনে চরম গাফিলতি করেছে। মৃতদেহগুলো দিনের পর দিন ইয়ার্ডে ফেলে রাখা হয়েছে, যার ফলে এলাকা এখন জনজীবন ও স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও স্থানীয়দের ক্ষোভ: স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ইয়ার্ডের আশেপাশে দুর্গন্ধে বসবাস করাই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের অভিযোগ:
-
সকাল-সন্ধ্যায় বাইরে বেরোলেই চোখ জ্বালা এবং শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।
-
বৃদ্ধ এবং শিশুদের শারীরিক সমস্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
-
বাতাসে রোগ-জীবাণু ছড়ানোর প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসনিক উদাসীনতা: সরকারি ইয়ার্ডের ভেতরে এমন বীভৎস ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার খবর জানাজানি হতেই শহরজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, যারা এই গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দ্রুত জায়গাটি পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
এই ঘটনা কেবল পরিবেশের বিপর্যয় নয়, বরং চরম অমানবিকতার একটি নজির হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে জয়সলমীরের মানুষ।