ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তির বার্তা নিয়ে বেইজিংয়ে পাক সেনাপ্রধান! নেপথ্যে শি জিনপিংয়ের কূটনীতি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ঝুলে থাকা পারমাণবিক চুক্তির আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় ‘বার্তাবাহক’ হিসেবে কাজ করার পর, পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এখন বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি ও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পেশ করবেন।
কূটনৈতিক দৌড়ঝাঁপ ও পাকিস্তানের ভূমিকা
এই মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরের সময় ইরান-মার্কিন আলোচনা কার্যত থমকে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের কাছে সহায়তার অনুরোধ করলে, বেইজিং পাকিস্তানকে এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়। সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আসিম মুনির সম্প্রতি তেহরান সফর করেন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পাজেশকিয়ান ও আলোচনা দলের প্রধান গালিবফের সঙ্গে খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। মুনিরের মাধ্যমেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান সম্পন্ন হয়।
মূল বাধা: চুক্তির নিশ্চয়তা
বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘নিশ্চয়তা’। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো চুক্তির নিশ্চয়তা না দিলেও জানিয়েছেন যে, নীতিগতভাবে কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তেহরানের প্রধান ভয়—অতীতে স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে সরে এসেছিল, ভবিষ্যতে আবারও সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে ইরান বড় ধরনের সংকটে পড়বে। দেশটি চায় কোনো বৃহৎ শক্তি চুক্তির বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিক। এই ক্ষেত্রে চীনকে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে মনে করছে তেহরান।
চীনের গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ কৌশল
বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসিম মুনিরের বৈঠকে চুক্তির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-চীন মৈত্রী বেশ দীর্ঘদিনের। যুদ্ধের উত্তপ্ত সময়ে চীন সরাসরি ইরানকে প্রযুক্তি ও সামরিক সহায়তা দিয়েছিল। ফলে বেইজিংয়ের এই মধ্যস্থতা বা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরিতে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে।
এখন বেইজিংয়ের বৈঠকের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই এখন বিশ্ব কূটনীতির বড় প্রশ্ন।