তেলের দামে স্বস্তি, শেয়ার বাজারে বড় লাফ! দাম কমল অপরিশোধিত তেলের, চাঙ্গা বিপিসিএল-আইওসি!

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার ইতিবাচক ইঙ্গিতে সোমবার শেয়ার বাজারে বড় উল্লম্ফন দেখল ভারতের সরকারি তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো। একদিকে জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম কমায় বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি, অন্যদিকে দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা মূল্যবৃদ্ধির ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় এই দৌড় দেখা গেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার বাজারে বড় লাফ
সোমবার বিএসই (BSE)-তে সরকারি তেল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দরে বড় উত্থান লক্ষ্য করা গেছে:

এইচপিসিএল (HPCL): ৫.৮৬ শতাংশ বেড়ে শেয়ারটি ৪১২.৫৫ টাকায় পৌঁছেছে।

বিপিসিএল (BPCL): ৪.৫৫ শতাংশ বেড়ে ৩০৯ টাকায় লেনদেন হয়েছে।

ইন্ডিয়ান অয়েল (IOCL): ৪.১৫ শতাংশ বেড়ে ১৪৫.৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

পেট্রোল-ডিজেলের দামে বড় পরিবর্তন
গত ১৫ই মে থেকে জ্বালানি তেলের দামে যে নতুন দফার সংশোধন শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রয়েছে। সোমবারই পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ২.৬১ টাকা এবং ডিজেলের দাম ২.৭১ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে এটি ছিল চতুর্থ দফার মূল্যবৃদ্ধি। সব মিলিয়ে গত ১০ দিনে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৭.৫ টাকা বেড়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলেও, সংস্থাগুলোর আয়ের পথে বাধা দূর করতে এই মূল্যবৃদ্ধি জরুরি ছিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

কেন এই দামের উত্থান-পতন?
ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম—এই তিন সংস্থা সম্মিলিতভাবে ভারতের জ্বালানি বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও হুরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে গত কয়েকমাসে তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। তবে বর্তমানে মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনার খবর আসায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী, যা সরাসরি প্রভাব ফেলেছে ভারতের শেয়ার বাজারে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক হয় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রক্রিয়া সফল হয়, তবে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে জ্বালানি সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আগামী দিনে অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।