দাবানলের গ্রাসে স্বপ্নভঙ্গ! দাতিয়ায় এক নিমেষে ছাই ১২টি আদিবাসী পরিবারের বসত!

প্রকৃতির রুদ্ররোষ আর প্রশাসনিক উদাসীনতার বলি হলো ১২টি আদিবাসী পরিবার। মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া জেলার ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি আদিবাসী শিবিরে দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়ে গেল ডজনখানেক ঘরবাড়ি। সর্বস্ব হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছেন দুর্ভাগা বাসিন্দারা।

এক নিমিষে ছাই সব
স্থানীয় সূত্রে খবর, পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে সূত্রপাত হওয়া আগুন প্রবল বাতাসের বেগে ঝড়ের গতিতে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, প্রাণ বাঁচাতে বাসিন্দারা ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগটুকু পেলেও নিজেদের সহায়-সম্বল বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাঁচানোর সময় পাননি। পরদিন সকালে ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসীরা কেবল ছাই আর ধোঁয়ার স্তূপ দেখতে পেয়েছেন। আগুনের গ্রাসে অনেক বাড়িতে খাঁচাবন্দি পাখিসহ গৃহপালিত পশুও জীবন্ত পুড়ে মারা গেছে।

বিয়ের স্বপ্ন ধূলিসাৎ
এই অগ্নিকাণ্ডের মানবিক ক্ষত সবথেকে বেশি স্পষ্ট মায়া আদিবাসীর চোখে। শারীরিক প্রতিবন্ধী এই মা তাঁর মেয়ের বিয়ের জন্য দীর্ঘদিনের জমানো টাকা ও সংসারের সরঞ্জাম সব হারিয়ে এখন দিশেহারা। চোখের জল ফেলে তিনি জানান, যে সম্বলটুকু দিয়ে মেয়ের নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আগুনের লেলিহান শিখায় কয়েক মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়েছে।

অভিযোগের আঙুল প্রশাসনের দিকে
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগুনের উৎসস্থলে জল ও সরঞ্জামের অভাবে তাঁরা নিজেরাই আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলবন্ত আদিবাসীসহ স্থানীয়রা জানান, বারবার ‘ডায়াল ১১২’ এবং দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া সত্ত্বেও তারা সাহায্য করতে ব্যর্থ হয়েছে। দমকল বাহিনী যখন পৌঁছাল, ততক্ষণে স্থানীয়দের ১২টি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ত্রাণের অপেক্ষায় ক্ষতিগ্রস্তরা
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মাথার ওপর ছাদ নেই, সম্বলহীন পরিবারগুলো এখন সরকারি ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের আশায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি তুলেছেন স্থানীয় সমাজসেবীরা।